ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন: বিচারক কামরুন্নাহারকে তলব করেছিলেন সুপ্রিম কোর্ট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা স্বত্বেও ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর তৎকালীন বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার। সে কারণে সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের মার্চে তাকে তলব করেছিলেন।

ওই জামিন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আজ সোমবার এক আদেশ দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ ওই আবেদনের ওপর আদেশ দেন। তবে, সুপ্রিম কোর্ট আদেশের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।

আবেদনটি 'রাষ্ট্র বনাম আসলাম শিকদার' মামলা হিসেবে বেঞ্চে উপস্থাপিত হয়।

ধর্ষণ মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সাবেক অনুষ্ঠান প্রযোজক আসলাম শিকদারের জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার।

জামিন আবেদন চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ১২ মার্চ বিচারক কামরুন্নাহারকে ওই বছরের ২ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তাকে আদালতে হাজির হয়ে ধর্ষণ মামলায় আসলাম শিকদারকে জামিন দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল।

এছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট আসলাম শিকদারের জামিন আদেশ বাতিল করে ২ সপ্তাহের মধ্যে তাকে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইব্যুনাল থেকে ওই মামলার নথি চেয়েছিলেন এবং তাতে দেখা যায় যে আসলামকে জামিন দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আছে।

পরে করোনার কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের আর শুনানি হয়নি এবং বিচারক কামরুন্নাহারও সুপ্রিম কোর্টে হাজির হননি।

আজকের আদেশ সম্পর্কে জানতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনিও আদেশের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপিল বিভাগ তা বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।

ধর্ষণের ঘটনায় ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে সুপারিশ করার ৩ দিন পর গত ১৪ নভেম্বর বিচারক কামরুন্নাহারকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন প্রধান বিচারপতি। এ ছাড়া, তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রত্যাহার করে একই দিনে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।