ধর্ষণ মামলায় জামিনের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

ঢাকার ধামরাইয়ে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে আসামিদের আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার বিকেলে কাওয়ালীপাড়া ফাড়িতে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই তরুণীর বাবা। তিনি জানান, ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া এলাকার ধর্ষণ মামলার আসামি সুমন হোসেন, তার ভাই শামীম হোসেন, আমজাদ হোসেন, সেলিম হোসেন এবং তাদের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারকে আগুন দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

থানায় করা অভিযোগে বলা হয়, ২ মাস আগে তরুণীকে ধর্ষণ করেন সুমন হোসেন। ঘটনার দুই দিন পর ৮ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সুমন ও তার ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৩১ আগস্ট জামিনে মুক্ত হয়ে অভিযুক্ত সুমনের ভাই শামীম ও সেলিম মামলা তুলে নিতে তাদের চাপ দিতে থাকেন। এসময় মামলা তুলে না নিলে হত্যারও হুমকি দেন তারা। পরে ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার। গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আসামিদের ভগ্নিপতি বাড়িতে ঢুকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে দেয়। পরে পাশের দুই চালা টিনের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে ওই ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভায় ও আমাদের উদ্ধার করে।'

তবে অভিযুক্ত শামিম হোসেন দাবি করেছেন তারা আগুন দেননি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন বলেন, গতকাল বিকেলে বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মেয়েকে ধর্ষণের আসামি।

'আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তবে কারা অগ্নিসংযোগ করেছে বিষয়টি তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়। আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব,' বলেন তিনি।

পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপপরিদর্শক আরাফাত বলেন, ' এই অভিযোগ সত‍্য নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।'