নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রনি কারাগারে

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংঘর্ষ ও সহিংসতার তিন মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহম্মদ এ আদেশ দেন।

এর আগে, শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার বাংলামটর এলাকা থেকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মশিউর রহমান রনিকে আটক করেন। পরে ওই রাতে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে মহাসড়কে যানবাহন ভাঙচুর ও সহিংসতার তিন মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মশিউর রহমান রনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।'

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রনিকে তিনটি মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ আদালতে পাঠায়। দুইটি মামলার মূল জুডিশিয়াল নথি না থাকায় শুনানি হয়নি। একটি মামলায় আদালত শুনানি শেষে আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠান।'

তিনি বলেন, 'এ মুহূর্তে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। পুলিশ বলেছে পরবর্তীতে রিমান্ড চাইবে।'

আসামি পক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজকে আমরা রনির জামিন আবেদন করেছিলাম। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। আমরা উচ্চ আদালতে রনির জামিন আবেদন করব।'

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'আমরা হতাশ। আজকে শুধু বিএনপি করার কারণে যেভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে এ সরকার হয়রানি করছে- মশিউর রহমান রনি তারই একটি অংশ।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা অবাক হয়েছি, গত মার্চ মাসের একটি ঘটনা, যেটা সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটেছিল। হেফাজতের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি যদি জড়িত থাকত তাহলে মামলার এজাহারে তার নাম থাকত। ওই মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু, রনির বাসা ফতুল্লা। ফতুল্লার কাউকে কিন্তু আসামি করা হয়নি। অথচ তেমন তিনটি মামলায় আজকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা আশা করি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মশিউর রহমান রনিকে মুক্ত করে আনব।'