নোয়াখালীতে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালিয়েছে কিশোর গ্যাং। এ ঘটনায় স্থানীয়রা কয়েকটি দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের নূরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন কালামিয়ার টেক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ হামলায় নবীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন সোহেল ও তার ভাগ্নে নজরুল ইসলাম আহত হয়েছেন। তাদের নোয়াখালী জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনার জন্য পুলিশের অবহেলাকে দায়ী করেছেন আহত চেয়ারম্যান।

আটককৃত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হচ্ছেন নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের অন্তর (১৯) ও বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের টিপু (২৪) আব্দুল গনি পারভেজ (২৫), ইমরান হোসেন ওরফে শান্ত (২০)।

চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল বলেন, 'গতকাল দুপুরে গোপালপুর গ্রামে ২ কিশোরীকে ইভটিজিং করে একই গ্রামের হারিস মোল্লা বাড়ির বাশারের ছেলে রবি (২৩) ও তার দল। সে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীদের উক্ত্যক্ত করে আসছে। ওই কিশোরীদের পরিবার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আমাকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবি ও তার কিশোর গ্যাংয়ের বহিরাগত সদস্যরা ওই কিশোরীদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাদেরকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।'

তিনি আরও বলেন, 'পরবর্তীতে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিতে বলি এবং ঘটনা স্থলে ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান ও গ্রাম পুলিশ পাঠাই। এতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীদের বাড়িতে আবারও হামলা করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত করি এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিসহ ২ জনকে আমার গাড়িতে নিয়ে ইউপি কার্যালয়ের দিকে রওনা দেই। একপর্যায়ে আসস্মিক রবির কিশোর গ্যাংয়ের ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য হকিস্টিক ও রড দিয়ে হামলা চালায়।'

হামলায় চেয়ারম্যান বাম চোখে ও কপালে গুরুতর আঘাত পান এবং তার ভাগনে নজরুলের মাথা ফেটে যায়। হামলাকারীরা চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করে।

এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে তাদের ৪ জনকে আটক করে স্থানীয়রা।

চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, '৯৯৯ কল দেওয়ার পর ঢাকা থেকে সেনবাগ থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও থানা পুলিশ গড়িমসি করে। রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘেরাও করে রাখে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গেলে এত বড় ঘটনা ঘটতো না।'

ঘটনা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, 'স্থানীয়দের হাতে আটক ৪ জন থানায় আছে। হামলার শিকার পরিবারটি ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আজ সকালে মামলা করেছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আটক ৪ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।'

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব  বলেন, 'ওই কিশোরীদের গত ২ বছর ধরে উত্যক্ত করা হলেও তাদের পরিবার বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেনি। পুলিশকে আগে জানালে ঘটনা এত বড় হতো না। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।'