নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন: ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪
নোয়াখালীর মাইজদী শহরে জেলা আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপের সমাবেশকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২ নেতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের ছেলে মো. রাফেজ (২৫), বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার পৌর হাজীপুর এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. আবুল হায়াত রায়হান ওরফে খালাশী রায়হান (২৬), সদর উপজেলার পশ্চিম শুল্যকিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মো. ইউনুছ (৪০), উপজেলার কাশিপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন (৩৯)।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. রাফেজ জেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবং মো. ইউনুছ সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল বুধবার দুপুরে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নিয়মিত মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে আওয়ামী লীগের ৩টি গ্রুপ ৬ সেপ্টেম্বর একই স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। কর্মসূচি সফল করার জন্য ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে এমপি একরামুল করিম চৌধুরী গ্রুপ, মেয়র শহিদ উল্যা খান সোহেলের গ্রুপ এবং অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনের গ্রুপের মধ্যে ত্রিমুখী ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯ রাউন্ড শর্টগান গুলি ছোড়ে। এ সময়ে মো. রাফেজ প্রকাশ্যে পিস্তল উচিয়ে প্রদর্শন করে। যার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সুধারাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বুধবার সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ ওই ভিডিও ক্লিপ পর্যালোচনা করে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনকারী ৬ মামলার আসামি মো. রাফেজকে শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। আগামী রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন দাবি করেন গ্রেপ্তারকৃত জেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মো. রাফেজ এবং সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ নির্দোষ। তাদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরেক গ্রেপ্তারকৃত নুরুল আমিন এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।
জানতে চাইলে নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৪ জনই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও শিহাব উদ্দিন শাহীনের অনুসারী।