পদ্মায় মা ইলিশ ধরায় ২৮ জেলেকে ২১ দিনের কারাদণ্ড
শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ ধরার দায়ে ২৮ জেলেকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত জাজিরার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জাজিরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফে মোহাম্মদ ছড়ার ভ্রাম্যমাণ আদালত আটককৃত জেলেদের এই কারাদণ্ড প্রদান করেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফে মোহাম্মদ ছড়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বছরের এই সময়টা ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম। এসময় ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে নদীর মিঠা পানিতে আসে। এ কারণে পদ্মা নদীতে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চালাচ্ছে মৎস্য সম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। এই ২২ দিন জেলেদের ইলিশ মাছ শিকার, বিক্রি, মজুদ, পরিবহন বন্ধ করেছে প্রশাসন।'
তিনি বলেন, 'জেলেদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ ও এই নিয়মের আওতায় থাকবেন। এসময় কোনো জেলে নদীতে জাল ফেলতে পারবেন না। জেলেরা মা ইলিশ ধরার জন্য শেষ রাতের দিকে পদ্মা নদীতে নামছেন। তাই জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জেলা পুলিশ ও র্যাব-৮ এর সমন্বয়ে যৌথভাবে ভোর ৫টার দিকে জাজিরার পদ্মা নদীর পালেরচর, বাবুরচর, কুণ্ডেরচর ও ছিডারচর এলাকায় অভিযান শুরু করি। এসময় পদ্মা নদীতে জেলেদের নৌকার উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। সকাল ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মা ইলিশ ধরার কারণে ২৮ জন জেলেকে আটক করা হয়।'
রাফে মোহাম্মদ ছড়া আরও বলেন, 'অভিযানের সময় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ২০ কেজি ইলিশ মাছ এবং ১টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। ২০ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় দুটি এতিমখানা এবং মাদ্রাসায় দেওয়া হয়েছে। আটককৃত ২৮ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। দেশের সম্পদ ডিমওয়ালা মা ইলিশ মাছ সংরক্ষণের জন্য আমাদের অভিযান আরও বেগবান করা হবে।'
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা থেকে গোসাইরহাটের নলমুরি পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার পদ্মা ও মেঘনা নদী। গত ৪ দিনে মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাব-৮ নদীতে ৪৬টি যৌথ অভিযান চালিয়েছে। তখন ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩১ ব্যক্তিকে জেল ও ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।'