পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালাল ধর্ষণ মামলার ২ আসামি
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার দুই আসামি পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছেন।
পলাতক আসামিরা হচ্ছেন- মো. জুয়েল (২৬) এবং মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০)।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আসামি পলায়নের ঘটনায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি তওহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার (১৮ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা এলাকার হাইওয়ে রোডের আল মদিনা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ৮ ঘণ্টা পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকার কামরাঙ্গিরচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, অপর আসামি জুয়েল এখনো পলাতক আছেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, গত ৩১ জুলাই রাতে সোনাইমুড়ীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ১ আগস্ট সকালে থানায় মামলাটি করা হয়। পুলিশ দেলোয়ার হোমেন ও মো. জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান। এরপর আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশে সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিসান আহাম্মেদসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য বুধবার সকালে মামলার দুই আসামি ও ওই তরুণীকে ঢাকার মালিবাগ সিআইডিতে নিয়ে যায়। এরপর নোয়াখালী ফেরার পথে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া এলাকার হাইওয়ে এলাকায় আল মদিনা হোটেলে বিরতি নেন। একপর্যায়ে আসামিরা পুলিশ পাহারায় টয়লেটে প্রবেশ করে। পরে দুই আসামি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে টয়লেটের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, হেফাজত থেকে আসামি পলায়নের ঘটনায় ও কর্তব্য অবহেলার কারণে কর্তব্যরত সোনাইমুড়ী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, নারী পুলিশ সদস্য আসমা আক্তার ও পুলিশ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ পরিদর্শক জিসান আহাম্মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শককে (ডিআইজি) ঘটনা অবহিত করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।