পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সেই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব
দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর রূপনগর থানার উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা সেই নারীকে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার বিকেলে ওই নারীর রূপনগরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে ও সেই বাসায় থাকা আরও এক নারীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত দুই জন হলেন—রূপনগরের বাসায় মালিক রাশেদা বেগম (৫৩) ও মাহমুদা আক্তার মিম (২৪)।
র্যাবের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে উচ্চবেতনে লোভনীয় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচারে জড়িত রয়েছে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এসব ঘৃণিত মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্যে র্যাব সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪'র একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং মানব পাচারকারী চক্রের ওই দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পাচারকারী চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে তথ্য দিয়েছেন। এই চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে নারী ও তরুণীদেরকে পাচার করত। তারা পার্শ্ববর্তী দেশে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নারীদেরকে পাচার করত। তাদের মূল টার্গেট ছিল দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত তরুণীরা। দেশে ১০-১৫ জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত নারীরা ভুক্তভোগীকে অর্থের বিনিময়ে 'অনৈতিক কাজ' করতে বাধ্য করতেন।
তবে, প্রতিবেশীরা বলছেন, উদ্ধার ওই তরুণী সেখানে বাসা ভাড়া করে তার 'স্বামী' সোহাগের সঙ্গে থাকতেন। সোহাগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ওই বাসায় ১৫ মাস ধরে বাস করছি। আমি ওই তরুণীকে বিয়ে করিনি। কিন্তু, আড়াই মাস হলো রাশেদা জোর করে ওই তরুণীকে এনে আমাদেরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রেখেছে।'
সোহাগ নিজেকে বাসচালক হিসেবে পরিচয় দিলে লাইসেন্স দেখাতে পারেননি তিনি।
রাশেদার মেয়ে মণি আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিন মাস আগে সোহাগ ওই তরুণীকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে আসেন। সম্প্রতি পুলিশ দুই বার এ বাসায় অভিযান চালালেও ওই তরুণীকে পুলিশকে এ ধরনের কোনো তথ্য দেননি যে, আমার মা তাদের একসঙ্গে রেখেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় আমার মাকে ফাঁসানো হয়েছে।'
গত ২১ আগস্ট আইজিপির কমপ্লেইন মনিটরিং সেল ও ডিএমপির পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগে রাশেদা তার গরু বিক্রির আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এসআইর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে তিনি জানান, গত ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপনগর থানার এসআই মাসুদুর রহমান ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যসহ তার বাসায় যান। বাসায় চোরাই মোবাইল সেট আছে অভিযোগ করে তারা সেখানে তল্লাশি চালালেও কিছুই পায়নি।
এক পর্যায়ে ঘরে সংরক্ষিত আড়াই লাখ টাকা পেয়ে এসআই মাসুদুর রহমান তা পকেটে রেখে দেন এবং দুই নারী ভাড়াটিয়াসহ তাকে থানায় নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, 'আমি বের হয়ে টাকার বিষয়ে কাউকে যদি কিছু বলি, তাহলে আমাকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ কোর্টে চালান দেবে বলেও তারা হুমকি দেয়।'
'পরে, টাকা ফেরত না দিয়ে আমাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনে কোর্টে চালান করে দেয়।। পরে, কোর্ট থেকে ২০ তারিখ বাড়িতে চলে আসি', অভিযোগে বলেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, 'অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বাসা থেকে তিন জনকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে, তাদের কোর্টে চালান করে দেওয়া হয়।'
জানতে চাইলে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান সরদার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট।'