প্রতিবেশীদের জমি হাতিয়ে নিতে আ. লীগ নেতার ‘অপকৌশল’

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

গ্রামের ৮টি পরিবারের জমি নামমাত্র দামে কিনে নিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে সেখান থেকে মাটি ও বালি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের একজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (৫৮)। তার বাড়ি দুর্গাপুর ইউনিয়নের ডাউয়ারকুটি গ্রামে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাটি ও বালি বিক্রি করায় গ্রামের কয়েকটি পরিবারের আবাদি জমি ও বসতভিটা ভেঙে যাওয়ার হুমকিতে পড়েছে। এসব জমি কম দামে কেনার জন্য জমির মালিকদের প্রস্তাবও দিচ্ছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

ডাউয়ারকুটি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ৮ জনের আবাদি জমি ও বসতভিটা কম দামে কিনতে চেয়েছিলেন আমিনুল। কিন্তু গ্রামবাসী এতে রাজি হননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের ৮ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু করেন গত ফেব্রুয়ারি থেকে। এরপর তিনি সেখান থেকে মাটি ও বালু বিক্রি করেন।

তারা আরও জানান, পুকুরপাড় না বাঁধায় পুকুরের পাশের বসতভিটা ও আবাদি জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ট্রাক দিয়ে মাটি ও বালু পরিবহন করায় গ্রামের এক কিলোমিটার রাস্তা এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে গ্রামের কবরস্থানটিও।

এখনো এসব জমি কম দামে কেনার প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন আমিনুল।

ডাউয়ারকুটি গ্রামের কৃষক মোস্তফা আলী (৫৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অবৈধভাবে এই পুকুর খনন করায় আমাদের আবাদি জমি ভেঙে যাচ্ছে, হুমকিতে রয়েছে বসতভিটাটি। আমাকে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় চলে যেতে বলছেন আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম। আমি রাজি হইনি। এখন তার অবৈধ পুকুর খননের কারণে আবাদি জমি ও বসতভিটা হারাতে বসেছি।'

একই গ্রামের বাসিন্দা সেলিনা বেগম (৪৮) বলেন, 'গ্রামের জমি কম দামে কেনার জন্য এখনো প্রস্তাব দিচ্ছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি অবৈধ পুকুর খনন করে আমাদের গ্রাম ছাড়া করার অপকৌশল নিয়েছেন। তার চক্রান্তে জমি হারাতে বসেছেন গ্রামের কয়েকটি পরিবার। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারছি না। আমরা অসহায় হয়ে গেছি।'

অভিযুক্ত দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি আমার জমিতে পুকুর খনন করছি। এতে কার জমি, বসতভিটা ভেঙে পড়বে সেটা আমার দেখার বিষয় না। আর আমি কারো কাছে কম দামে জমি কেনার প্রস্তাব দেইনি।'

আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল কাজটি মোটেই ভালো করেননি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।'

দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নান্নু বলেন, 'আমিনুল ইসলাম অবৈধভাবে পুকুর খনন করে গ্রামবাসীকে চরম বিপদে ফেলে দিয়েছেন। গ্রামের রাস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে।'

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জি. আর. সারোয়ার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুকুর খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বালু মহাল আইনে আদিতমারী থানায় মামলা হয়েছে।'

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকতারুল ইসলাম বলেন, 'আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিব।'