ফরিদপুরে অস্ত্র, মাদকসহ আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ফরিদপুর শহরের মামুদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ আওয়ামী লীগ নেতা মো. গোলাম মোস্তফা (৪৬) ও তার স্ত্রী শ্যামলী রোকসানাকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফরিদপুর সদরের মামুদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোলাম মোস্তফা ফরিদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক।
অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে একটি কাঠের বাটযুক্ত পিস্তল, ম্যাগজিন চারটি ৭.৬৫ কার্তুজ, একটি লোহার তৈরি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, দুটি স্টিলের ছোরা, একটি লোহার তৈরি রামদা, দুটি তলোয়ার, একটি কাঠের বাটযুক্ত লোহার ছুরি, ৮ বোতল ফেনসিডিল, একটি মুঠোফোন এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার পুলিশ সুপারের সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামাল পাশা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মো. গোলাম মোস্তফা ও তার সহযোগী একই এলাকার মো. রিপন মিয়ার (২৯) বাড়িতে শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টা এবং দুপুর সোয়া ১টার দিকে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশী অস্ত্র, ফেনসিডিল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মো. রিপন মিয়া পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
জামাল পাশা বলেন, 'এই ৩ জন পারস্পারিক সহযোগিতায় মাদক তথা ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিলেন। এছাড়া পলাতক আসামি রিপনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।'
ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ২টি মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া ওই দম্পতির ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।'
জানতে চাইলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম শেখ বলেন, 'যখন এ পৌর কমিটি হয় তখন সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ও এ এইচ এম ফোয়াদ ক্ষমতায়। তাদের চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে গোলাম মোস্তফাকে পৌর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক করতে হয়েছিল। তাকে আমার পছন্দ না।'