ফরিদপুরে মেয়রের ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্থানীয় সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম ওরফে নাঈমকে (৩০) পিটিয়ে গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেছে।
পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফারের ভাই জাপান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন মুজাহিদ।
আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরে অবস্থিত বাসস্ট্যান্ডের রাজধানী পরিবহনের কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী মুজাহিদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাংবাদিক মুজাহিদকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করেছেন। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফরিদপুরে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা যাবেন বলে আলফাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের রাজধানী পরিবহনের কাউন্টারে টিকেট কিনে বাসে ওঠেন মুজাহিদের বন্ধু মো. রমিজ খান (২৯)। বাস ছাড়ার আগ মূহুর্তে রাজধানী পরিবহনের 'ক্যাশ কাউন্টার' থেকে বলা হয় রমিজ টিকিটের টাকা দেননি। তাই তাকে ঢাকায় যেতে দেওয়া হবে না। সেসময় রমিজ বিষয়টি মুজাহিদকে জানিয়ে এ ব্যাপারে তার সহযোগিতা চান।
মুজাহিদ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির জানার চেষ্টা করলে কাউন্টারের ম্যানেজার জাপান ও তার সহযোগিদের সঙ্গে মুজাহিদের কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে জাপান ও তার সহযোগিরা কাঠের বাটাম দিয়ে মুজাহিদকে মারধর করলে গুরুতর আহত হন তিনি।
রাজধানী পরিবহনের ওই কাউন্টারটি পরিচালনা করেন মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফারের ছোট ভাই ওসমান। এ কাজে ভাইকে সহযোগিতা করেন মেঝ ভাই জাপান।
যোগাযোগ করলে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর বলেন, 'ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।'
'মুজাহিদকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাপানকে আটকের জন্য পুলিশের ৩টি দল কাজ করছে। সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না,' বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, 'আমি বর্তমানে উপজেলার বাইরে আছি। মঙ্গলবার আলফাডাঙ্গায় এসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করবো।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার ভাই দোষী হলে আমি নিজে জাপানকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে পুলিশের তদন্তের কাজে সহযোগিতা করবো।'
সাংবাদিক মুজাহিদ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর হোসাইনের একমাত্র সন্তান। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ঢাকা টাইমস পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাংগাঠনিক সম্পাদক।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেল ৩টায় আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জরুরি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকেন্দার আলম।
সভায় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জাপানসহ এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। প্রকৃত আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।