বরগুনায় মাটিচাপা দেওয়া মা-শিশুর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক, আটক ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক মা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে হাতেমপুর গ্রাম থেকে এই দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সকালে স্থানীয়রা ওই নারীর স্বামী শাহীন মুন্সীর বাড়ির পাশে একটি নতুন গর্ত দেখে থানায় খবর দিলে মাটি খুঁড়ে দড়ি দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত ৩০ জুন থেকে মা সুমাইয়া ও শিশু জুঁই নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই শাহীন মুন্সী পলাতক। তিনি উপজেলার পূর্ব হাতেমপুর গ্রামের খলিলুর রহমান মুন্সীর ছেলে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহীন মুন্সীর মা শাহীনুর বেগম, নানী জাহানারা বেগম ও ফুফাতো ভাই ইমাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার ও পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে শাহীন মুন্সীর বাড়ির পার্শ্ববর্তী খালের পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় নিহত সুমাইয়ার বাবা মো. রিপন বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিস বৈঠকও হয়েছে।

স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বুধবার দুপুরে সুমাইয়ার বাবার বাড়িতে তাদের দাওয়াত ছিল। কিন্তু, শাহীন সেখানে যাননি। দুপুরে দাওয়াত খেয়ে সুমাইয়া তার স্বামীর বাড়িতে আসার পর থেকেই শিশুকন্যাসহ নিখোঁজ হন। সুমাইয়ার পরিবার থেকে বিষয়টি বৃহস্পতিবার পাথরঘাটা থানা পুলিশকে জানানোর পর থেকে স্বামী শাহীন লাপাত্তা হয়ে যান এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।

পরদিন শুক্রবার স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীনের মা শাহীনুর বেগম এবং নানী জাহানারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য না পাওয়ায় দুই দিনের মধ্যে শিশুকন্যাসহ সুমাইয়াকে খুঁজে আনার জন্য পুলিশ তাদেরকে চাপ দেয়। পরে আজ মাটি খুড়ে মা ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুমাইয়ার বাবা মো. রিপন বলেন, ‘বুধবার আমাদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর থেকে সুমাইয়া ও তার মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

‘শাহীনই আমার মেয়ে ও নাতিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছে। শাহীন ও তার মা আমার মেয়েকে প্রায়ই নির্যাতন করতো’, বলেন তিনি।