বরিশালে সংঘর্ষ

২ মামলার প্রধান আসামি সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরিশাল

বরিশালে ইউএনও অফিস চত্বরে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র ধরে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও গুলির ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

উপপুলিশ কমিশানার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঁইয়া ও কোতয়ালী থানা সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সদর থানার ইউএনও মো. মুনিবুর রহমানের দায়ের করা মামলায় আটাশ জনকে নামীয় আসামি এবং অন্তত ৭০-৮০ জনকে জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সেখানে যা ঘটছে সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।'

অন্যদিকে, কোতয়ালী থানা সূত্রে মামলার নথি থেকে জানা গেছে, পুলিশের এসআই শাহজালাল মল্লিকের দায়ের করা মামলায় ৯৪ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, শ্রমিক লীগের সভাপতি পরিমল দাসসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনেক নেতাকেও আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৪০০।

উভয় মামলায় কর্তব্য কাজে বাধা দান, শারীরিক নির্যাতন ও বাড়িতে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মেয়রের বাসভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও নিজেই আনসারদের অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণ করেন।

তবে, আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগ ইউএনও অস্বীকার করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, 'সেখানে যা ঘটেছিল সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই সব তথ্য জানা যাবে।'

মামলা দুটি বৃহস্পতিবার বিকেলে নথিভুক্ত হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে  জানান, মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবুসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীসহ অর্ধশত ব্যক্তির নামে ও কয়েকশ অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে হামলা, কর্তব্যে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে এ মামলা দুটি করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দশ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও দশ জন ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। বরিশাল জেলা প্রশাসনের জনসংযোগ দপ্তর দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী খুলনা থেকে বিজিবি বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন ও অফিস প্রাঙ্গণ থেকে সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পোস্টার-ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আনসার ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

এ সংঘর্ষের সময় বরিশাল সদর উপজেলা চত্বরে গুলির ঘটনায় দুই পুলিশ ও দুই আনসার সদস্য, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নইমুল ইসলাম লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকন, ২৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি শাহরিয়ার বাবু, বিসিসি কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার অফিসের লোকজনদের সঙ্গে ইউএনও অফিসের লোকজনদের হৈচৈ শুনে সিনিয়রদের পাঠাই। কিন্তু, সেখানে আনসাররা গুলি চালায়। পরে, আমি এসে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও আমার নেতাকর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।'

'আমি এ ঘটনার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা চাই। অবশ্যই এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব,' যোগ করেন তিনি।