বাউফলের সেই ইউপি চেয়ারম্যান দুর্নীতির মামলায় কারাগারে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারসহ ৬ জনকে একটি দুর্নীতির মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক রোখসানা পারভীন এ আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী আরিফুল হক টিটু দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। আজ আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে, আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার অপর আসামিরা হলেন- বাউফলের তৎকালীন ও বর্তমান বরিশালের বাখেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান, ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, আশরাফুল আলম, মেজবাহ উদ্দিন ও ইউপি সচিব মজিবর রহমান।

তারা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে গঠিত কনকদিয়া ইউনিয়ন কমিটির সদস্য। চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে ওই কমিটির সভাপতি বলে জানান দুদকের আইনজীবী।

আদালত ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩৮২ জন হতদরিদ্র চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। কিন্তু, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নীতিমালা অনুযায়ী ওই তালিকায় বিধবা, ডিভোর্সি নারী, দুস্থদের অর্ন্তুভুক্তির নিয়ম থাকলেও কমিটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২৩৩ জন বিত্তশালী, সরকারি কর্মচারী, স্কুল শিক্ষক ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে তালিকাভুক্ত করে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ দাখিল করা হলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাস ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি বাউফল থানায় তালিকা প্রস্তুত কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত চলাকালে ২০১৮ সালের ৩ মে কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার তালিকা তৈরিতে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ২৩৩ জন তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীর মধ্যে বিতরণকৃত চালের মূল্য বাবদ মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু, আদালত ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অভিযোগটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দিয়ে দুদকে পাঠায়।

দ্বিতীয় দফায় দুদকের উপসহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন মামলাটি তদন্ত করে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, সরকার ৩৭.৯০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে চাল কিনে হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ২৭.৯০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। কিন্তু, ইউনিয়ন কমিটি তালিকা তৈরিতে অনিয়মের ফলে ২৩৩ জন বিত্তশালীকে দেওয়া চালের মূল্য বাবদ সরকারের ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।