বিয়েবাড়িতে ‘টক’ দই, পরদিন কনের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বরযাত্রীদের 'টক' দই খেতে দেওয়ার কারণে কনে পক্ষের সঙ্গে বর পক্ষের বাগবিতণ্ডার জেরে পরদিন কনের বাবা ইকবাল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইকবাল হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গণকমুড়া গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিষ্ণাউড়ি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে পারভেজ মিয়ার বিয়ে হয়। বরযাত্রীদের খাবারের সময় কয়েকজন অভিযোগ তোলেন দই টক হয়ে গেছে। এই নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তবে, বিয়ে বাড়িতে থাকা মুরুব্বিদের মধ্যস্থতায় তখনই বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
পরদিন বুধবার রাতে স্থানীয় বাজারে বরপক্ষের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কনের বাবার আবারও বাগবিতণ্ডা হলে তারা কনের বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইকবাল হোসেনের স্বজনরা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ওই দিন বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে অনেক দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাদের খাবার আলাদা করে রাখা হয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে দই টক হয়ে যায়।'
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আসা নিহতের এক স্বজন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বুধবার রাত অনুমান ১০টার দিকে স্থানীয় গণকমুড়া বাজারে চায়ের দোকানে যান ইকবাল হোসেন। ওই বাজারে বরপক্ষের গ্রামের ৫-৭ জন যুবক একই বিষয়ে আবারও ইকবাল হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বর পক্ষের লোকজন ইকবাল হোসেনকে মারধর করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ ছাড়া, ভিকটিমের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।'