বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত স্বামী-স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৫
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে আবুবকর সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী মধুবালা আহত হয়েছেন। পুলিশ আহত স্বামী-স্ত্রীসহ আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে একজন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যও আছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন বিলগাথুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, আবুবকরের বাসায় তারা বোমা তৈরি করছিলেন। বকরের স্ত্রীও সেখানে ছিলেন। সে সময় হঠাৎ করে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিষ্ফোরণে ওই ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এতে আবুবকর ও তার স্ত্রী মধুবালা আহত হন। বিস্ফোরণে বকরের দুই পা ও দুই হাতের মাংস উড়ে গেছে এবং তার স্ত্রী মধুবালার বাম হাত ও ডান পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, 'তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে দুজনকেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'বিস্ফোরণে আহত ও গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই সীমান্তে চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত।'
ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশারফুজ্জামান মুকুল। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'বকর একটি চোরাকারবারি দলের সক্রিয় সদস্য। সে এসব বোমা সীমান্তে চোরকারবারির সময় ব্যবহার করে।'
এদিকে, ঘটনার পর পুলিশ আবুবকর ও তার স্ত্রী মধুবালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই চক্রের সন্ধান পায়। এরপর তখনই অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তারা হলেন, একই গ্রামের ইয়াকুব মণ্ডলের ছেলে প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবুল কালাম (৪৫), আমিরুল মাস্টারের ছেলে বিকু (৪০) ও তাহের আলীর ছেলে রায়হান (২২)।
ওসি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুবকর ও তার স্ত্রীকে কুষ্টিয়া সিআইডির একটি দলও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।