ব্যবসায়ীর স্বর্ণ লুট, ডিবি পরিদর্শকের আরও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী

ফেনীতে ব্যবসায়ীর স্বর্ণের বার লুটের মামলায় অধিকতর জিজ্ঞাসাদের জন্য ফেনীর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি ডিবি) মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে দুই দফায় ৮দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ও পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম আদালতে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে, আদালত আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের হাজারী গলির সোনা ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস ২০টি সোনার বার নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসের পাশে ব্যবসায়ীর গাড়ি থামিয়ে তাকে আটক করে এবং ২০টি স্বর্ণের বার রেখে দেয় ফেনীর ডিবি পুলিশ পরিদর্শকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ওই সোনা ব্যবসায়ী ১০ আগস্ট ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই রাতেই ওসি ডিবি সহ ৬ ডিবি পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেন। তারা হলেন- ওসি ডিবি মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহার হোসেন, নুরুল হক, মিজানুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানা।

পরে ১০ আগস্ট রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওসি ডিবি সাইফুল ইসলামের বাসা থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন। কিন্তু, ৫টি সোনার বার উদ্ধার করা যায়নি। ওই ৫টি স্বর্ণের বার মামলার দশ দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় গত ১৪ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছমিদুল হক নামে (গোপালের সাবেক ব্যবসায়ীক অংশীদার) স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বর্ণ ব্যবসার বিরোধ ও পুলিশের সোর্স হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মঙ্গলবার মামলার আপর দুই সাক্ষী (ডিবি পুলিশ কর্মকর্তাদের দুইজন গাড়ি চালক) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

সূত্র জানায়, চার দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আসামিকে মামলার ঘটনা সম্পর্কে নানা কৌশলে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেন। তবে, ৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য আছে। এ কারণে অবশিষ্ট স্বর্ণের বার উদ্ধার ও মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।