ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় ৪ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ আটক ৬
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় দুটি ভোটকেন্দ্র থেকে হাতেনাতে ৪ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নং কেন্দ্র ও জাহাজমারা ইউনিয়নের ১৩ নং কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশন থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
হাতিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'ওই ৬ জনকে হাতেনাতে ধরার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট। তারা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে আছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
আটক ৬ জন হলেন- হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২ সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. বেলায়েত হোসেন। জাহাজমারা ইউনিয়নের হাজী মোজাম্মেল হক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২ সরকারী প্রিজাইডিং অফিসার আহমেদ রফিক, মো. ছিদ্দিক উল্যা এবং একই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মুন্নি বেগম ও ফারজানা আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ভোটারবিহীন অবস্থায় ব্যালট পেপারে বিভিন্ন মার্কায় সিল মারছিলেন। এ সময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী ভোট কক্ষ থেকে ২ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান ও বেলায়েত হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এছাড়া, জাহাজমারা ইউনিয়নের হাজী মোজাম্মেল হক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ২টার দিকে দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আহমেদ রফিক, মো. ছিদ্দিক উল্যা ও পোলিং অফিসার মুন্নি বেগম ও ফারজানা আক্তারকে ব্যালটে সিল মারার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।'
আজ হাতিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে অনিয়ম ও হুমকির অভিযোগে ৫টি ইউনিয়নের ২ জন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এবং আ. লীগের ৩ জন বিদ্রোহীপ্রার্থী সোমবার সকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তারা হলেন- বুড়িরচর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী এটিএম সিরাজুল ইসলাম, সোনাদিয়া ইউনিয়নের বিদ্রোহীপ্রার্থী নুরুল ইসলাম, চরইশ্বর ইউনিয়নের বিদ্রোহীপ্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বিদ্রোহীপ্রার্থী মেহরাজ উদ্দিন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ৫ জন বর্তমান চেয়ারম্যান।