মরিশাসে বাংলাদেশি নারী ধর্ষণ, রামপুরায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ব আফ্রিকার দেশ মরিশাসে কাজের জন্য গিয়ে কোম্পানির মালিকের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি নারী। ধর্ষণে বাংলাদেশের কয়েকজন সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আজ শনিবার ঢাকার রামপুরা থানায় মানবপাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নারী।
এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সাহায্য চাইলে মন্ত্রণালয় তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
মামলা সূত্রে এবং ওই নারীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরিশাস পৌঁছানোর পর সেখানে একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে হেলপার হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশি মোহাম্মদ শাহ আলম এবং তার সহযোগী ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম তাকে কোম্পানির মালিকের রুমে তাকে আটকে রাখে। সেখানে কোম্পানি মালিক অনিল কলি তাকে ধর্ষণ করে।
ওই নারী অভিযোগ করেন, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে পরেও ধর্ষণ করা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে মরিশাসের একটি হাসপাতালে নিয়ে অ্যাবরশন করানো হয়।
গত ২৮ ডিসেম্বর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে অভিযোগ করার পর তার বাবাকে নজরবন্দি করাসহ ও মানসিকভাবে নানান নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ওই নারী জানান, পরে তিনি ও তার বোন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসাসহ কাউন্সেলিং সহায়তা করা হয়।
ওই নারীর দাবি, ওই কোম্পানিতে ছয়শরও বেশি বাংলাদেশি নারী কাজ করেন। নারীদের টার্গেট করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেন মোহাম্মদ শাহ আলম, ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম। কোম্পানির মালিক প্রায়ই নারীদের নিপীড়ন করেন।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী এই নারী যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটি ভয়াবহ। বিদেশে কাজের কথা বলে কাউকে যৌন নিপীড়ন করা বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানো মানবপাচারের মধ্যে পড়ে। মরিশাস এবং বাংলাদেশ সরকারের উচিত যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করা। আরও কোনো বাংলদেশি নারী এমন নিপীড়নের শিকার কি না সেটিও খুঁজে বের করে বিচার করা উচিত। আশা করছি মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবে। আর বাংলাদেশেও যেহেতু মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে সেটিরও যথাযথ তদন্ত ও বিচার হবে বলে আশা করি।