মসজিদে কন্যাশিশুকে নেওয়ার জেরে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় তারাবি নামাজের সময় কন্যাশিশুকে মসজিদে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে যুবক নিহতের ঘটনায় পুলিশ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত বৃহস্পতিবারের ওই সংঘর্ষে আহত লাল চাঁন মিয়া (২৮) গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানী উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সোমবার নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোবিন্দ সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত লাল চাঁন মিয়া উপজেলার উত্তর-বাখরনগর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা গোবিন্দ সরকার জানান, পেশায় কৃষক লাল চাঁন সেদিনের সংঘর্ষে অংশ নেননি। তিনি সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করছিলেন।

তিনি বলেন, 'সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছিল। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে।'

মামলায় মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান তিনি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাহাদুরপুর গ্রামের নূর ইসলাম গত বৃহস্পতিবার তারাবি নামাজ পড়তে কান্দাপাড়া জামে মসজিদে যান।

এ সময় তিনি নিজের ৪ বছর বয়সী কন্যাশিশু নুসরাতকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। মসজিদে ঢোকার পর শিশুটিকে ইমামের পেছনে দাঁড় করান নূর ইসলাম। 

এ নিয়ে নিহত লাল চাঁনের মামা আলাউদ্দিনের সঙ্গে শিশুটির বাবা নূর ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নূর ইসলামের চাচাতো ভাই জুয়েল আলাউদ্দিনকে মারধর করে। 

লাল চাঁন সংঘর্ষের খবর পেয়ে মামার খোঁজ নিতে আসেন। ফেরার পথে প্রতিপক্ষের কয়েকজন লাল চাঁনের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। 

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। 

অবস্থার অবনতি হলে লাল চাঁনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে রোববার সন্ধ্যায় উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।