মাদক মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সম্রাটকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মাদক মামলার শুনানিতে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক তেহসিন ইফতেখার এ আদেশ দেন। সম্রাটের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই আদেশ দেন। ওই দিন বিচারক মাদক মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করবেন।
আবেদনপত্রে সম্রাটের আইনজীবী উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল সম্রাট জামিন পেয়েছে কিন্তু আরেকটি মামলায় কারাবন্দি থাকায় তিনি আজ আদালতে হাজির হতে পারেননি।
প্রসঙ্গত গত ১১ মে সম্রাট সব মামলায় জামিন পান। পরবর্তীতে ২৪ মে দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর র্যাবের উপপরিদর্শক ও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ২০ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছে।
ওই বছরের ৫ অক্টোবর ঢাকার ফকিরাপুল এলাকায় ইয়ংমেনস ক্লাবে র্যাবের অভিযানে অবৈধভাবে ক্যাসিনো ব্যবসার বিষয়টি উঠে আসে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে এতে সম্রাটও জড়িত। ৬ অক্টোবর কুমিল্লায় ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেন ও তার সহযোগী যুবলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকালে সম্রাট ও আরমান মদ্যপ ছিলেন। তাদের কাছেও মদ পাওয়া যায়। এই অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেন।
তাদের ঢাকায় আনার পরে রাজধানীর কাকরাইলে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান চালায় র্যাব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সেখানে বন্য প্রাণীর চামড়া, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র পাওয়া গেছে। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্রাটকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
পরে ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্রাটের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে।