মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ২৩ নভেম্বর
হেফাজতে ইসলামের সাবেক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পিছিয়েছে।
আজ রোববার সোনারগাঁও থানার দায়ের করা ওই মামলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। আসামি মামুনুল হককে আদালতে হাজির না করায় রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিসুর রহমান আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজকে ধার্য তারিখ থাকলেও মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জে আনা হয়নি। আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। আজকে মামলার বাদীও আদালতে আসেনি।'
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '৩ নভেম্বর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অসুস্থ থাকায় এ মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১৪ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে আজকে মামুনুল হককে আদালতে হাজির না করায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।'
মামুনুল হককে কেন আদালতে হাজির করা হয়নি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তাজনিত কোনো বিষয়ে হয়তো আনা হয়নি।'
প্রসঙ্গত, ৩ এপ্রিল বিকেল ৫টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার কক্ষে মামুনুল হক ও এক নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখে উপজেলা যুবলীগের, ছাত্রলীগ সহ স্থানীয় কয়েকজন। সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্ট ভাঙচুর করে ওই নারী ও মামুনুল হককে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তারা গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামীলীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক একটি মামলা করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরো ৩টি মামলা করেন। ৬টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।
পরে ৩০ এপ্রিল সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী। তাকে মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছিলেন।