দিনাজপুর

মা-ছেলে অপহরণ মামলায় আদালতে আরও ২ সাক্ষীর জবানবন্দি

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনাজপুর

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা-ছেলেকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও দুই সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত।

আজ শনিবার দিনাজপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল আমীনের আদালতে দুই সাক্ষীকে আনা হয়। এরা হচ্ছেন- মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শারমিন আক্তার ও আইনুল হক। আদালতের বিচারক ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এর আগে, গত বুধবার বিকেলে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম, তার মা জহুরা খাতুন, সাক্ষী কামরুল হক ও আফতাবুর রহমানের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একই দিন একই আদালতে মামলার প্রধান আসামি ফুশিউল আলম পলাশ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রংপুর সিআইডি'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সিআইডি'র ৩ সদস্যের গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, দিনাজপুর সিআইডি'র পক্ষ থেকে আরও একটি তদন্ত অব্যাহত আছে।

গ্রেপ্তার সিআইডি'র তিন সদস্যের মধ্যে কাউকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি পাইনি।'

চিরিরবন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার অভিযোগ করা মামলায় ১০ জন আসামি প্রধান আসামি মো. ফুশিউল আলম পলাশ (৪৫), পুলিশের রংপুর সিআইডি'র এএসপি মো. সারোয়ার কবির সোহাগ (৪০), এএসআই হাসিনুর রহমান (৩৫), কনস্টেবল আহসান-উল হক ফারুক (৪০) ও মাইক্রোবাস চালক হাবিব মিয়া (২৮) বর্তমানে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আটক আছে। তবে, আজ শনিবার পর্যন্ত বাকি পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গত মঙ্গলবার দিনাজপুরের দশমাইলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন রংপুর সিআইডি'র এএসপি মো. সারোয়ার কবির সোহাগ, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসান-উল হক ফারুক ও মাইক্রোবাস চালক হাবিব মিয়া। পরে গ্রেপ্তার করা হয় ফুসিউল আলম পলাশকে। এই ঘটনায় অপহরণ থেকে উদ্ধার হওয়া জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বুধবার চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চিরিরবন্দর থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।