মুহিব উল্লাহ হত্যায় আরসা ও আল-ইয়াকীনের দিকে পরিবারের অভিযোগ
রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আল-ইয়াকীন নামের দুটি সন্ত্রাসী সংগঠনের দিকে অভিযোগ তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন থেকেই এরা মুহিব উল্লাহকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
মুহিব উল্লাহকে কারা হত্যা করেছে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এখনো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য না দিলেও তারা বলেছে, জনপ্রিয়তার কারণে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরাই তাকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীরা তার পরিচিত।
গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাত হামলাকারীরা কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে প্রবেশ করে মুহিব উল্লাহকে গুলি করে। এতে আরএসপিএইচ চেয়ারম্যান ৪৮ বছর বয়সী মুহিব উল্লাহ নিহত হন।
মুহিব উল্লাহর ছোট ভাই মাওলানা হাবীব উল্লাহ আজ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার ভাইকে আরসা ও আল-ইয়াকীনের সন্ত্রাসীরাই হত্যা করেছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।'
কী কারণে সন্ত্রাসীরা মুহিব উল্লাহকে হত্যা করতে পারে প্রশ্ন করা হলে হাবীব উল্লাহ বলেন, 'কোনো মহলের ইন্ধন আছে কিনা আমি জানি না। এটা তদন্ত করে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আমার ভাই সব সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানে ছিলেন। এটাও একটা কারণ হতে পারে।'
মুহিব উল্লাহর চাচাতো ভাই নুরুল আমিনও এই দুই সংগঠনের দিকে অভিযোগ তুলেছেন। আজ সকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আরসা ও আল-ইয়াকীনের সন্ত্রাসীরা নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেলে ও হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কিছুদিন থেকে মুহিব উল্লাহকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল।
কক্সবাজার এপিবিএন-১৪ এর কমান্ডিং অফিসার নাইমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, একদল মুখোশধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুহিব উল্লাহকে গুলি করে। পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে ঘটনায় কারা জড়িত এবং হত্যার কারণ কী তা জানা যাবে। ক্যাম্পের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ঘটনাস্থলে গতকাল রাতে এবং আজ সকালে রোহিঙ্গারা ভিড় করেছিল। তবে পুলিশের অনুরোধে তারা চলে যায়। ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল বাড়ানো হয়েছে।
মুহিব উল্লাহ মিয়ানমারে শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন। এ কারণে তিনি রোহিঙ্গাদের কাছে মাস্টার মুহিব উল্লাহ নামে সুপরিচিত। তার বয়স ৪৮ বছর। তার স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান আছে বলে জানা গেছে। তিনি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৭ জুলাই তিনি ১৭ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭ জন প্রতিনিধির সঙ্গে হোয়াইট হাউজে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খেলার মাঠে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ করে তিনি আলোচনায় আসেন।
এদিকে আজ বিকেলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে মুহিব উল্লাহর মরদেহের ময়না তদন্ত হয়েছে। তার স্বজনরা পুলিশ পাহারায় মরদেহ নিয়ে গেছেন।
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইনে ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আল-ইয়াকীনের কার্যক্রম ছিল। এই সংগঠনের নেতা আতাউল্লাহ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এর যোগাযোগ আছে বলে ধারণা করা হয়।