মুহিব উল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যা মামলার ২ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এদিন সকালে ২ আসামির ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তারা হলেন— উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের নূর বশরের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ (৩৩) ও কুতুপালং ৩ নম্বর ক্যাম্পের রহিম উল্লাহর ছেলে শওকত উল্লাহ (২৩)।

কক্সবাজার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক চন্দন কুমার চক্রবর্তী দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহর ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে উখিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলা এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে মুহিব উল্লাহর পরিবারের সদস্যরা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আল-ইয়াকীন নামে দুটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তারা বলছেন, বেশ কিছু দিন থেকেই এরা মুহিব উল্লাহকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

মুহিব উল্লাহকে কারা হত্যা করেছে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এখনো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য না দিলেও তারা বলেছে, জনপ্রিয়তার কারণে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরাই তাকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীরা তার পরিচিত।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে প্রবেশ করে মুহিব উল্লাহকে গুলি করে। এতে আরএসপিএইচ চেয়ারম্যান ৪৮ বছর বয়সী মুহিব উল্লাহ নিহত হন।

মুহিব উল্লাহর ছোট ভাই হাবীব উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার ভাইকে আরসা ও আল-ইয়াকীনের সন্ত্রাসীরাই হত্যা করেছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।'

কী কারণে সন্ত্রাসীরা মুহিব উল্লাহকে হত্যা করতে পারে প্রশ্ন করা হলে হাবীব উল্লাহ বলেন, 'কোনো মহলের ইন্ধন আছে কি না আমি জানি না। এটা তদন্ত করে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আমার ভাই সব সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানে ছিলেন। এটাও একটা কারণ হতে পারে।'

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, 'মুহিব উল্লাহ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছিলেন। সে কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে। মুহিব উল্লাহর হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'