মেহেরপুরে বিরল প্রজাতির ৪ শকুন উদ্ধার, ৩ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

পাচারকারীদের হাত থেকে ৪টি বিরল প্রজাতির কালা শকুন উদ্ধার করেছে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ৩ পাচারকারীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের ১ বছর করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মেহেরপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে সীমান্ত লাগোয়া মুজিবনগর উপজেলার রতনপুর গ্রাম থেকে শকুনগুলো উদ্ধার করা হয়। এগুলো ভারতে পাচারের চেষ্টা চলছিল।

এই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, উদ্ধার করা শকুনগুলো জাতে কালা শকুন। যা আমেরিকান ব্ল্যাক ভালচার নামে পরিচিত। উদ্ধার করা শকুনগুলোর বাজারমূল্য ২ লাখ টাকার বেশি।

তার দাবি, এই ঘটনায় আটক ও দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন জাতের পাখি ধরে ভারতে পাচার করে আসছিল। তারা হলেন- মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের বাসিন্দা জাকের আলী ও আজগর আলী এবং গোপালনগর গ্রামের মজিবর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ এর ৩৪ এর খ ধারায় আটক ৩ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই প্রজাতির শকুন বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না। এটি শুধু বিরলই নয়, বিরলতম পরিযায়ী পাখি। এরা পাহাড়ের খাদে কিংবা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বছরে মাত্র একটি ডিম দেয় এবং সেটি ফুটে বাচ্চা বের হয়।

এদিকে কেবল বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণীটি শকুন। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুব খারাপ। খাদ্যসংকট, বাসস্থানসংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে দেশ থেকে উপকারী পাখি শকুন হারিয়ে যাচ্ছে।