ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধর, উপজেলা যুবলীগ সভাপতিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার
করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করতে বাসায় না যাওয়ায় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতিসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন--মুক্তাগাছা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম মনি (৩৮) ও যুবলীগ কর্মী জাহিদুল ইসলাম জুয়েল (৩৫), রানা দে (২৭), মো. কামারুজ্জামান (৩৫) ও রাকিবুল ইসলাম শরীফ (২৬)। আজ বুধবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল আকন্দ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. এ এইচ এম সালেকিন মামুন (২৮)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের ইমারজেন্সি হটলাইন নাম্বারে মুক্তাগাছা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম মনি পরিচয়ে একজন কল দেন। ফোন দিয়ে তিনি শহরের দরগারপাড় এলাকার বাসায় গিয়ে তার মায়ের করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে জানতে চান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক সালেকিন সে সময় তাকে জানান যে বাসায় গিয়ে স্যাম্পল সংগ্রহ আপতত বন্ধ আছে। রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্যাম্পল দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
ওসি দুলাল আকন্দ আরও জানান, ওই ঘটনার পর হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিসহ একদল লোক মেডিকেল অফিসার ডা. এ এইচ এম সালেকিন মামুনের কক্ষে প্রবেশ করে এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর ডাক্তারকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক গতকাল রাতে থানায় মামলা করেন।
চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় বিএমএ ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি ডা. মতিউর রহমান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ডা. এইচ এ গোলন্দাজ তারা এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে সারাদেশের চিকিৎসকরা যখন নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের।’
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই মামলা রেকর্ড করা হয় এবং রাতেই দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এছাড়া করোনাকালে চিকিৎসকসহ সম্মুখযোদ্ধাদের ওপর কোনো রকম হয়রানিমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তারকৃতদের আজ দুপুরে ময়মনসিংহের একটি আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুজ্জামান সিদ্দিক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম মনির শাস্তি দাবি করেন।