যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা গায়েব, নথি চাইবে দুদক
চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ শুক্রবার দুদক যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি আমরা শুনেছি। রোববার সব নথি তলব করা হবে। সরকারের টাকা আত্মসাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সূত্র জানায়, সরকারি কোষাগারে জমার জন্যে আয়কর ও ভ্যাট বাবদ মোট ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করে বোর্ড। কিন্তু চেকগুলোর নম্বর ও তারিখ ঠিক রেখে ২টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তুলে নিয়েছে।
এ ঘটনায় যশোর কোতয়ালী থানায় গতকাল একটি জিডির পাশাপাশি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানিকে প্রধান করে ৫ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অডিট অফিসার আবদুস সালাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের বিভিন্ন মালামাল কেনা বাবদ ভ্যাটের ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু, ওই ৯টি চেকের ৭টি দিয়ে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ও শাহী লাল স্টোর নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ২টি চেকের মাধ্যমে বোর্ডের ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তুলেছে।
তিনি আরও জানান, চেক বইয়ের গ্রাহকের অংশের সঙ্গে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় এই গড়মিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। চেক বইয়ের গ্রাহকের অংশের সঙ্গে চেকের অংশের ইস্যুকৃত অংকের মিল পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, 'ধারণা করা হচ্ছে বোর্ডের কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া চেকের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।'
জানতে চাইলে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোল্লা আমীর হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানের চেক কম্পিউটারে প্রিন্ট করে দেওয়া হয়। সেখানে হাতে লেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় একটি জিডি ও তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
জিডির বিষয়ে জানতে যশোর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তসলিম উদ্দিনের মোবাইলে আজ বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪-৫ বার ফোন করলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শিক্ষা বোর্ডের সচিব এ এম এইচ আলী রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কার্যাদেশ অনুযায়ী মালামাল কেনা হয়। সোনালী ব্যাংক থেকে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আমাদের নথিতে কোনো বিল-ভাউচার জমা নেই। ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইতোপূর্বে আমাদের কিছু মালামাল দিলেও, শাহী লাল স্টোরের সঙ্গে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোনো লেনদেন নেই।'