যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, যারা অপপ্রচার চালিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের আমি হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, তাদের আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করবো।
আজ মঙ্গলবার র্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিককরণ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ হলো বাংলাদেশ। এই উপমহাদেশের অনেক দেশে অনেক কিছু করে। কোনো দেশের সম্পর্কে আমরা কোনো কিছু বলি না। আমরা বলি, আমাদের দেশে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখবো। আমরা অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছি। এটা বিনষ্ট করার জন্য আজ দেখছি নানান ধরনের তৎপরতা। আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ হবে। এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে-মিশে চলবে। সেই ধারণাকে মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন, দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আজ পর্যন্ত কোনো পূজা মণ্ডপে কোনো কিছু হয়নি, এবারই আমরা দেখলাম ব্যতিক্রম ঘটেছে। ঘটেছে না, ঘটানো হয়েছে।
আমরা দেখলাম, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে গেছে। কুমিল্লারটা তো বলেছি, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে কিছু উগ্র মানুষ হিন্দুদের একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুর করতে গিয়েছিল। আমাদের পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেও যখন হিমশিম খেতে হচ্ছিল তখন তারা ফায়ার অপেন করতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে ৪ জন এবং আজ মেডিকেলে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। কেন এই হত্যাকাণ্ড? কেন এই মৃত্যু? কার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার জন্য এই মৃত্যু— প্রশ্ন রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, পরিতোষ নামে অল্প বয়সী একটা ছেলে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছিল, সেটাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা। আমাদের পুলিশ বাহিনী তার বাড়ি রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। যে ছেলেটি করেছিল তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিন্তু ইতোমধ্যে পাশের কয়েকটি গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর হয়েছে। আমরা এটার নিন্দা করছি। শুধু আজ নয় রামু, নাসিরনগর, ভোলায় ফেসবুকের মাধ্যমে অপপ্রচার করে কীভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, কীভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা— এগুলো আমরা দেখছি।
একটি স্বার্থান্বেষী মহল একটি অপপ্রচার করে যাচ্ছে। বিগত বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে সম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গত ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। ২ যুবক চাপাতি দিয়ে একজনকে হত্যা করছে; সেই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ও আসামিদের র্যাব ইতোপূর্বে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারাগারে আছে। সেই ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে একটি মহল আজ প্রচার করছে নোয়াখালীর যতন সাহাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের আমি হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, তাদের আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করবো। তাদের জবাব দিতে হবে এসব অপপ্রচার তারা কেন করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে বের করবে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব সদর দপ্তরের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি সর্বোত্তম সার্বিক ব্যবহার ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ডাটা হাব, ওপেন সোর্স ইন্টিলিজেন্স, র্যাব ডিজিটাল অফিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, র্যাব প্রাইভেট ক্লাউডের পথ চলা শুরু হলো। ভার্চুয়াল জগতে অপরাধী ধরতে র্যাব আজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। অপরাধ আর কেউ করতে পারবে না এ কথা আমি বলবো না। কুমিল্লায় যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে পূজা মণ্ডপে তাকেও অল্প সময়ে ধরে ফেলতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস। সে বিভিন্ন জায়গায় স্থান পরিবর্তন করছে, বিভিন্ন দিকে যাচ্ছে, আমরা তাকে ধরবো এবং কেন সে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল তা জানাবো। আমি প্রত্যাশা করবো, র্যাব এই সমস্ত সুবিধাদির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।