রত্নাই নদী খনন: কাজ শেষ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে রত্নাই নদী খননে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের মহিষতুলি থেকে ঝারির ঝাড় গ্রাম পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রত্নাই নদী খননে এক কোটি ৮১ লাখ ১১ হাজার ৭২০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত বছর জুনের মধ্যে নদী খনন কাজ সম্পন্ন করার চুক্তি করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড।
তবে, ২০২১ সালের জুনে এসেও সেই কাজ রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ। কাজ অসম্পূর্ণ থাকলেও বিল তোলা হয়েছে পুরোটাই।
মহিষতুলি গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘খননের আগেই রত্নাই নদী ভালো ছিল। খননের নামে ঠিকাদার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রকাশ্যে বিক্রি করেছেন।’
এ ঘটনায় আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে চারটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন।
খননের নামে শুধু নদীতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে করে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান নুর ইসলাম।
ঝারির ঝাড় গ্রামের কৃষক সফিয়ার রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নদীতে অল্প কিছু খনন করার পর ঠিকাদার মেশিন নিয়ে চলে যান। এরপর নদী খননের কথা থাকলেও তিনি আর কাজ করেননি। এলজিইডিরও কেউ আসেননি। খননের পর রত্নাই নদীর আগের চেয়েও খারাপ অবস্থা হয়েছে।’
ঠিকাদারের প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন দাউদের সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ‘রত্নাই নদীতে চুক্তি অনুযায়ী খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর এ কাজের বিলও উত্তোলন করা হয়েছে।’
লালমনিরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার গড়িমসি করেন, তাহলে তার সিকিউরিটি মানি দিয়ে অসম্পূর্ণ কাজটি সম্পূর্ণ করা হবে।’