রাজধানী থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরায় অভিযান চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র্যাব। চক্রটি ২০০-২৫০ জনকে পাচার করেছে, তাদের মধ্যে ৩৫-৪০ জন নারী বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- লিটন মিয়া ওরফে ডা. লিটন (৪৪) এবং আজাদ রহমান খান (৬৫)। আজ শনিবার র্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, র্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা লিটন মিয়া ও তার সহযোগী আজাদ রহমানকে গ্রেপ্তার করে। লিটনের বাড়ি গাইবান্ধায়, আজাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তাদের কাছ থেকে প্রাইভেটকার, পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ল্যাপটপ, ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানায় র্যাব।
র্যাব জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, লিটন ও আজাদ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মানবপাচারকারী চক্রের কর্ণধার। চক্রটির দেশে-বিদেশে ১৫-২০ জন সক্রিয় সদস্য আছে। এই চক্র বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে উচ্চ বেতনের কথা বলে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন পেশায় দক্ষ নারী যেমন নার্স, পার্লার ও বিক্রয় কর্মীদের টার্গেট করে এই চক্রটি। চক্রটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন চাকরির কথা বলে প্রতারণা করে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে চক্রের মূল হোতা লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিকেল থেকে পাস করা এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিত। আরও জানাতো ইরাকের বাগদাদে একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে কর্মরত লিটন। সহযোগী আজাদ একটি এজেন্সির আড়ালে নারী পাচারের সাথে যুক্ত। এই চক্রটি বিদেশে পাচারের পর ভিকটিমদের অনৈতিক কাজের জন্য বিক্রি করে দিত। ভিকটিমদের প্রথমে বাংলাদেশ থেকে টুরিস্ট ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে নেওয়া হতো। তারপর ১-২ দিন অপেক্ষা করিয়ে ভিজিট টুরিস্ট ভিসায় ইরাকসহ অন্যান্য দেশে পাচার করত। গ্রেপ্তারকৃত লিটন ইরাকে কয়েকটি সেফ হাউজে ভিকটিমদের অবস্থান করাত। তারপর সুবিধাজনক সময়ে ভিকটিমদের বিক্রি করে দেওয়া হতো।
ভিকটিমদের কাছ থেকে ৩-৪ লাখ টাকা নেয়া হতো। আবার তাদের প্রায় বাংলাদেশি সমমূল্যের তিন লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করা হতো।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত লিটন সরকারি একটি সংস্থায় মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১০ সালে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার চাকরিচ্যুত হয়। তারপর ২০১৩ সালে ইরাকে গিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। ইরাকে অবস্থানকালীন ২০১৬ সালে তিনি আজাদ সম্পর্কে জানতে পারেন ও পরবর্তীতে তার সঙ্গে সখ্যতা তৈরি হয়। বাংলাদেশ থেকে নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের কাজে আজাদ সহায়তা করত। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় ইরাকে গ্রেপ্তার এড়াতে বাংলাদেশে ফিরে আসে। আজাদ আগে ২ বার ইরাকে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে লিটনের নামে বিভিন্ন থানায় মানবপাচার ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা আছে। আজাদ বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় প্রতারণা ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন
মামলা আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাব।