রাজবাড়ীতে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ মিয়াকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহত আবদুল লতিফ মিয়া (৫৫) মহিষবাথান গ্রামের পুকুরচালা এলাকায় মৃত আব্দুল আছির উদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বানিবহ ইউপি'র সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া, তিনি এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

লতিফ মিয়ার ভাতিজা আরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বানিবহ বাজার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন লতিফ মিয়া। এসময় তার সঙ্গে মেহেদী হাসান নামে এক প্রতিবেশী ছিলেন। লতিফের বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে মেহেদীদের বাড়ি। মেহেদীকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার পর নিজের বাড়ির দিকে রওনা দেন লতিফ। এসময় তিনি পথের মধ্যে কিছু মানুষকে দেখতে পান, যারা তার পথ আটকে দাড়িয়ে ছিল। এরপর তিনি মোটরসাইকেল ঘুড়িয়ে অন্যদিক যেতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। তার শরীরে ৫টি গুলি লাগে।

আরিফুল ইসলাম আরও জানান, হামলার পর লতিফ মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ফেরিতে উঠানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা লতিফের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গুলিতে আহত আবদুল লতিফ মিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান। আমরা দুর্বৃত্তদের ধরার চেষ্টা করছি। লতিফের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'