শিক্ষকের নিপীড়নে মানুষ দেখলেই কাঁদছে শিশুটি

সুশান্ত ঘোষ

শিক্ষকের অমানবিক নিপীড়নে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে আট বছর বয়সী শিশুটি। আতংক আর ভয়ে জড়োসড়ো ছোট প্রাণ। কাউকে দেখলেই কেঁদে উঠছে ভয়ে।

বর্তমানে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন শিশুটি। কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানান, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত ছাড়াও শিশুটি মানসিকভাবে আতংকগ্রস্থ হয়ে আছে। পুরোপুরি ঠিক হতে সময় লাগবে।

শিশুটির বাবা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুটির ওপর দুই মাস নিপীড়ন চালানো হয়।

তিনি জানান, ছয় দিন আগে মাদ্রাসা থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। পানিতে চুবানো, মল খেতে বাধ্য করা, শরীরে গ্যাসের সিলিন্ডার উঠিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে শিশুটিকে নির্যাতন করে মাদ্রাসা শিক্ষক জুবায়ের আহম্মেদ। শিশুটির শরীরের বিভিন্নস্থানে নির্যাতনের চিহ্ন।

শিশুটির বাবা বলেন, 'আমাদের বাড়ি বরিশাল সদরে। গত চার মাস আগে এক হাজার টাকার চুক্তিতে আমার ছেলেকে মাদ্রাসার হেফয বিভাগে ভর্তি করাই। কিন্ত গত ২৫ আগস্ট ওই মাদ্রাসার আরেক ছাত্র জানায় শিক্ষক জুবায়ের আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে। পরে ছেলের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, শিক্ষক জোরপূর্বক খারাপ কাজ করতে চাইছিল। গত দুই মাস ধরে এই নির্যাতন চললও বাড়িতে কাউকে বললে আরও শাস্তি দেয়া হবে- এই হুমকির কারণে সে আমাদের কাছে কোনো কিছু বলতে সাহস পাচ্ছিল না।'

এই ঘটনা জানার পর মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দিই। শিশু নির্যাতনের অভিযোগে নগরীর এয়ারপোর্ট থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলার পর ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ হালদার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। মামলার বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশু নিপীড়নে শিক্ষক গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাদ্রাসাটি বন্ধ আছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহফুজ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।