সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার টিক্কাপুর হাওরে বেড়াতে যাওয়া এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সোলায়মান রনিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রনিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।'
গত ২৫ আগস্ট এক নারী তার স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে টিক্কাপুর হাওরে নৌকায় করে বেড়াতে যান। এ সময় তার স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে বেঁধে রেখে সংঘবদ্ধ ভাবে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার ওই নারীর স্বামী হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা দায়ের করেন।
এতে আসামি করা হয়েছে উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের ইকবাল হোসেন ছোট্ট মিয়ার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সোলায়মান রনি (২২), একই এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে মিঠু মিয়া (২১), রুকু মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (১৯), মোড়াকড়ি গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে মুছা মিয়া (২৬), পাতা মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২২), বকুল মিয়ার ছেলে সুজাত মিয়া (২৩), মিজান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫) ও ওয়াহাব আলীর ছেলে মুছা মিয়াকে (২০)।
আট আসামির মধ্যে রনি, মিঠু ও শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক পর্যায়ে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর তার স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ৯ লাখ টাকা দাবিসহ ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেয় আসামিরা। মামলা করলে কিংবা কাউকে এ ঘটনা জানালে তাদের হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলার বাদী বলেন, 'লোকলজ্জা এবং ধর্ষকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে এলাকায় স্ত্রীর চিকিৎসা না করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। পরবর্তীতে গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।'
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, 'পুলিশ অভিযুক্ত শুভকে গত বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়াও র্যাব-৯ বুধ ও বৃহস্পতিবারে অভিযান চালিয়ে রনি ও মিঠুকে গ্রেপ্তার করেছে।'
হবিগঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'ওই নারী এখন কিছুটা সুস্থ। তবে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।'