সিনহা হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য শুরু
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার দ্বিতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ সেপ্টেম্বর বুধবার পর্যন্ত টানা চার দিন চলবে।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে। বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।
আজ মামলার মোট ১৫ জন আসামি আদালতে হাজির আছেন। ১৫ জন আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসা হয় সকাল সাড়ে ৯টায়।
গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। গতকাল প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলে। ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মীনা বাজার এলাকার মোহাম্মদ আলী গতকাল আদালতে সাক্ষ্য দেন। তিনি শামলাপুর এলাকার একজন মৎস্য ব্যবসায়ী।
আদালত সূত্র জানায়, আজ সাক্ষ্য দিচ্ছেন টেকনাফের শামলাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন। আদালতের বিচারক তার জবানবন্দী গ্রহণ করছেন। তার জবানবন্দী নেওয়া শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।
গত ২৫ আগস্ট প্রথম দফায় পর পর তিন দিন মামলার বাদী মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাহিদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা শেষে বিচারক দ্বিতীয় দফা সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে যে ১৫ আসামিকে হাজির করা হয়েছে তারা হলেন, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, তার দেহরক্ষী কনস্টেবল রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার আওতাধীন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
গত ২৩ আগস্ট সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্যপ্রদানের মাধ্যমে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি মোজাফফর আহমদ, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন আহমদ দ্বিতীয় দফায় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।
এ মামলায় ৮৩ জন সাক্ষী আছেন। চলতি বছরের ২৭ জুন সব আসামির উপস্থিতিতে মামলার চার্জ গঠন (অভিযোগপত্র) করা হয়।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আযহার আগে আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনী অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। হত্যার পাঁচ দিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন র্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি 'পরিকল্পিত ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।