সিনহা হত্যা মামলা: আসামিদের জবানবন্দি শেষ, যুক্তিতর্ক ৯-১২ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় নবম দফায় আসামিদের সাক্ষ্য প্রদান শেষ হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে যুক্তি-তর্কের জন্য আগামী ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে নবম দফায় দ্বিতীয় দিনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়ে তা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

আদালতে আসামিরা ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সাক্ষ্য দেন।

টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক ও মামলার অন্যতম আসামি নন্দ দুলাল রক্ষিতের লিখিত জবানবন্দি আদালতে পেশ করার মধ্যদিয়ে মামলার মোট ১৫ জন আসামির জবানবন্দি শেষ হয়েছে। এর আগে সোমবার ১৪ জন আসামির প্রত্যকে আলাদাভাবে তাদের লিখিত জবানবন্দি আদালতে পেশ করেন। 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত এ মামলা পরিচালনায় পিপিকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন অতিরিক্ত পিপি মোজাফফর আহমদ হেলালী ও সহকারি পিপি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দীন আহমদ। 

চলতি বছরের ২৩ আগস্ট মামলার বাদী মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও সাক্ষীদের জেরা পর্ব। মামলায় মোট ৬৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। সবশেষ সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ৬৫ জনের মধ্যে ৯ জন সাক্ষী ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী। মামলার অভিযোগপত্রে তালিকাভুক্ত মোট সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন। 

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে বরখাস্ত) পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (বর্তমানে বরখাস্ত) নন্দ দুলাল রক্ষিতকে। আদালত মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় কক্সবাজার র‍্যাব-১৫কে।

গত বছরের ৭ আগস্ট মামলার আসামি সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিন গ্রামবাসী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও সাত জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। চলতি বছরের ২৪ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে।

এ হত্যা মামলার চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি 'পরিকল্পিত ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করা হয়।