সিনহা হত্যা মামলা: তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় অষ্টম দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের তৃতীয় দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে। 

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলামের গতকাল মঙ্গলবারের অসমাপ্ত জেরা শুরু হলে তা হলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে গত ১৭, ২৯ ও ৩০ নভেম্বর এবং আজ ১ ডিসেম্বর মোট ৪ দিন জেরা করেন। তিনি এ মামলার সর্বশেষ সাক্ষী। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্ব শেষ করেন আদালত।

তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাবের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ছিলেন এ মামলার ৬৫ নম্বর সাক্ষী। এ ছাড়া, মামলার এজাহারে সাক্ষীর তালিকায় নাম ছিল ৮৩ জনের। 

আজ মামলার সবশেষ সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা মতে আসামি পরীক্ষা করেন আদালত। এ মামলার বিচারিক কার্যত্রুম চলছে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে। আদালতে মামলার মোট ১৫ জন আসামি হাজির ছিলেন। আদালত আগামী ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। ওই তিন দিন আসামিরা ইচ্ছে করলে সাফাই-সাক্ষ্য দিতে পারবেন। এরপর দুপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করবেন।  

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান।

আলোচিত এ মামলা পরিচালনায় পিপিকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন অতিরিক্ত পিপি মোজাফফর আহমদ হেলালী ও সহকারী পিপি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দীন আহমদ। 
 
চলতি বছরের ২৩ আগস্ট মামলার বাদী মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও সাক্ষীদের জেরা পর্ব। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৬৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। ওই ৬৫ জনের মধ্যে ৯ জন সাক্ষী ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী। মামলার অভিযোগপত্রে তালিকাভুক্ত মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৮৩ জন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ৪ মাস এক সপ্তাহ সময় ধরে তদন্ত করে ১৫ জনকে এ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৭ জুন ফৌজদারি কার্যবিধি মতে মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের উপস্থিতিতে বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। ওইদিন সব আসামি বিচারকের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। 

গত বছরের ৩১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কে বাহারছড়ার শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকতের গুলিতে ও পরবর্তীতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নির্যাতনে মারা যান মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন ১ আগস্ট টেকনাফ থানায় দুইটি মামলা করে। ৫ আগস্ট কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে লিয়াকত ও প্রদীপসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। আদালত শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের এজাহারটি সরাসরি হত্যা মামলা হিসাবে রুজু করার জন্য টেকনাফ থানার ওসিকে আদেশ দেন। এরপর এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসাবে টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত করা হয়। ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রদীপকে। লিয়াকতসহ অন্যান্য আসামিদের ও ওইদিন পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলার বাদীর এজাহারে আসামি হিসাবে ৯ জনের নাম উল্লেখ থাকলে ও তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে। 

১৫ জন আসামির মধ্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল সাগর দেব ছাড়া অপর ১৩ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে। ওই ১৩ জন হলেন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর রহিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এসআই মোহাম্মদ শাহাজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, টেকনাফের মারিশবনিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আয়াজ ও নেজাম উদ্দীন।