স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি বাসা থেকে দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানসহ এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তার স্বামী অহিদুল ইসলাম অহিদকে (৩০) খুঁজছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ওই বাসা থেকে রোমা আক্তার (২৭) ও তার দেড় বছর বয়সী ছেলে রিশাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে, রোমা আক্তারের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ও তার ছেলেকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই বাসা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেটা অহিদের হাতের লেখা বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে তিনি 'প্রবাসী একজনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে' বলে উল্লেখ করেছেন।
অহিদের মা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল রাতে তিনি দুই বাসায় আরবি পড়ানো শেষ করে বাসায় ফিরে দেখেন, বাসার বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তালাটি নতুন। অহিদকেও ফোন দিয়ে পাননি। পরে অহিদের বাবা আব্দুর রাজ্জাককে ফোন দিলে তিনি বাসায় এসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢুকে তাদের মরদেহ দেখতে পান।
এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় খবর দিলে পুলিশ রাত ৩টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
ওহিদের বাবা আব্দুর রাজ্জাক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি অনেক আগে থেকে রোমাদের চিনি। তাদের বাসার লজিং মাস্টার ছিলাম। সে পরকীয়া করার মতো মেয়ে না। আমার ছেলে মিথ্যা সন্দেহ করে তাকে হত্যা করেছে।'
অহিদের বড় বোন রাজিয়া সুলতানা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অহিদ ২০১৫ সালে বিএ পাশ করে মালয়েশিয়া গিয়েছিল। সেখানে তিন বছর থাকার পর দেশে ফিরে বিয়ে করে। বিয়ের পর পেশা হিসেবে পাঠাওয়ের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং করত। পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর কোর্স করে ডিজাইনার হিসেবে চাকরির জন্যেও চেষ্টা করছিল। মহামারির কারণে নিয়মিত কোনো চাকরি না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে।'
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ দ্য ডেইলি স্টার বলেন, 'আজ রাত ৯টা পর্যন্ত অহিদকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশের একাধিক টিম তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে।'