হত্যা মামলার এজাহার বদল, বরখাস্ত ওসি শাকিল কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) কারচুপির অভিযোগে হওয়া দুর্নীতির মামলায় পুঠিয়া থানার সাবেক ওসি শাকিল উদ্দিন আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় দুর্নীতি দমন বিশেষ আদালত।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ওই হত্যা মামলার এজাহার বদলে দেওয়ার অভিযোগে করা দুর্নীতির মামলায় শাকিল আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।

আইনজীবী নুরুল ইসলাম সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় হাইকোর্টের আদেশে শাকিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন প্রার্থনা করেন।

বিচারক ইসমত আরা তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ২০২০ সালের মার্চ মাসে দ্য ডেইলি স্টারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা শাকিল আহমেদকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে হত্যা মামলার এজাহারে জালিয়াতি, জমি দখল, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার চাকরিতে বহাল থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

দুদকের মামলার বিবরণে বলা হয়, পুঠিয়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে অন্য পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ১১ জুন নিহত হন শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম। ওই দিনই নুরুলের মেয়ে নিগার সুলতানা বাদী হয়ে পরিবহন নেতা আবদুর রহমান পটল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহসানুল হক মাসুদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আবদুর রহমান পটলের পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল কারচুপিতে তৎকালীন ওসি শাকিল উদ্দিন আহমেদ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কিন্তু পুলিশ পটল, মাসুদ ও ওসি শাকিল উদ্দিনের নাম বাদ দিয়ে রাজশাহীর বিচারিক আদালতে হত্যা মামলার এজাহার জমা দেয়।

সেসময় নিগার সুলতানা ওই মামলার এজাহারকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে শাকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগটি নিঃসন্দেহে গুরুতর এবং একটি শাস্তিমূলক অপরাধ। বিচার বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়কে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেন শাকিল। ২০২০ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট শাকিলের আপিল খারিজ করে দিয়ে দুদককে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। দুদকের মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন চাইলে তাকে রাজশাহীর আদালতে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দেওয়া হয়।