হাসপাতাল থেকে আসামিকে টেনেহিঁচড়ে থানায়, ৬ পুলিশ ক্লোজড
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হাসপাতাল থেকে ৪ আসামিকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে বের করে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখান থেকে ৪ আসামিকে আটক করার অভিযোগে আজ বুধবার সরিষাবাড়ী থানার ৪ এসআই ও ২ কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ক্লোজড পুলিশ সদস্যরা হলেন-এসআই সাইফুল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন, আলতাফ হোসেন, ওয়াজেদ আলী এবং কনস্টেবল মোজাম্মেল হক ও সাথী আক্তার।
ওসি জানান, অসদাচরণের অভিযোগে ওই ৪ জনকে ক্লোজড করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ওসি।
স্থানীয়রা জানান, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি বাজার এলাকার আব্দুল জলিল (৬৪) ২০ শতক জমিতে বসতভিটা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ওই এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান ওই জমি তার দাবি করায় ২ পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সোমবার সকালে মুজিবুর রহমান দলবল নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জলিলসহ পরিবারের সবাই আহত হন।
আহত আব্দুল জলিল, তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০), বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), মেজো ছেলে ওয়ায়েজ করোনি (২৫), ছোট ছেলে হামদাদুল হককে (১৬) সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করলে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে এজাহারভুক্ত ওই ৪ জনকে আটক করে।
সে সময় হাসপাতালের দ্বিতীয়তলা থেকে তাদের টেনেহিঁচড়ে নিচতলায় নেওয়ার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুলিশ তাদের আটকের সময় আমাদের কোনো অনুমতি নেয়নি।'
তবে আহতদের চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ওসি মীর রকিবুল হক বলেন, 'মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ অন্যদের আসামি করে করেন। এরপর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে। নইলে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হতো।'