হিল্লা বিয়ের ফতোয়া: ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিল্লা বিয়ের ফতোয়া দিয়ে দিনমজুর আয়নাল হক ও জামিরন বেগম দম্পতিকে একঘরে করে রাখার ঘটনায় ফতোয়া দেওয়া ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে দেবীগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারক এম এম মাহবুব ইসলাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে জানিয়েছেন কোর্ট পরিদর্শক আনিছুর রহমান।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন-- মো. শাহজাহান আলী, মুফতি মো. আনোয়ার হোসেন, মো. নাসির উদ্দীন, মো. আমির চাঁন, মো. শহীদ, মো. ছোরমান আলী, মো. জুলহক, মো. মোস্তফা এবং মো. রাসেল।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গত রোববার জারি করা হলেও আজ মঙ্গলবার দুপুরে তা প্রকাশ পায়।
এর আগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নিয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ২২ আগস্টের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের সলিমনগর এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে গত রোববার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়।
পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন সার্বিক পর্যালোচনা করে দেবীগঞ্জ উপজেলার সলিমনগর এলাকার স্থানীয় মাতবর মনগড়া ফতোয়া দিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই দম্পতিকে হিল্লা বিয়েতে বাধ্য করতে প্রায় চার মাস একঘরে করে রাখার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাটি তদন্ত করে সময়মত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখনো পাইনি। পরোয়ানা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদালত সূত্র জানায়, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নে মৌখিক তালাকের জের ধরে দিনমজুর দম্পতি আয়নাল হক ও জামিরন বেগম দম্পতিকে হিল্লা বিয়ের ফতোয়া না মানায় মাতবরদের একঘরে রাখার ঘটনাটি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়।
আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯১(১) সি ধারায় বিষয়টি আমলে নেন।