ইস্টার সানডে উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে সূর্যোদয় প্রার্থনা

মিন্টু দেশোয়ারা
মিন্টু দেশোয়ারা

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তমান্ডলিক সূর্যোদয় প্রার্থনা।

আজ রোববার ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ মাঠে এই প্রার্থনার সূচনা হয়। সেখানে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ শতাধিক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী অংশ নেন।

খ্রিষ্ট ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশুখ্রিস্টের মৃত্যুর তৃতীয় দিনে তিনি ফিরে আসেন। পুনরুত্থানের ওই রোববারটি ইস্টার সানডে হিসেবে পালিত হয়। যিশুখ্রিস্টের এই ফিরে আসা স্মরণে দেশে দেশে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে দিনটি পালন করেন।

বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করেন। প্রতিটি গির্জা সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। সকাল থেকেই বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রার্থনা করা হয়।

আজ ভোরে শ্রীমঙ্গলের প্রার্থনায় যোগ দিতে আসা স্যামুয়েল যোসেফ হাজং এই প্রতিবেদককে বলেন, 'আমি বেশ কয়েকবার ঢাকার প্রার্থনায় গিয়েছি। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের মতো প্রত্যন্ত একটি অঞ্চলে এমন আয়োজন এবারই প্রথম। এখানে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।'

আরেক অংশগ্রহণকারী সাজু মারছিয়াংয়ের ভাষ্য, 'সম্মিলিত উদ্যোগের এই সূর্যোদয় সমবেত প্রার্থনা যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। প্রার্থনায় একসঙ্গে এত মানুষের উপস্থিতি দেখে উৎসাহিত হয়েছি।'

শ্রীমঙ্গল পুনরুত্থান সূর্যোদয় আন্তমান্ডলিক উপাসনা কার্যকরী কমিটির সভাপতি ফাদার নিকোলাস বাড়ৈ সকালের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, 'শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবারই প্রথমবারের মতো আমরা এত বড় আয়োজন করেছি। এখানে ক্যাথলিক, ব্যাপ্টিস্ট, প্রেসবিটারিয়ানসহ সব খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিশ্বের সকলের শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি। আমরা যেন সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারি। প্রভু যিশু যেন আমাদের সকলের মঙ্গল করেন, প্রার্থনায় এসব কথা বলেছি।'