ঈদের বরাদ্দ ভিজিএফের চাল এখনো পাননি উলিপুরের অধিকাংশ বানভাসি

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার ৮৬ হাজার ৩১৫টি দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের জন্য ৮৬৩ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে, ঈদ পেরিয়ে গেলেও এখনো অধিকাংশ বানভাসি পাননি সেই চাল।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সময় মতো বরাদ্দকৃত চাল সরবরাহ করা হয়নি।

ঈদের আগে ভিজিএফের চাল না পাওয়ায় উলিপুর উপজেলার বহু সংখ্যক বানভাসি মানুষ ঈদের দিন অর্ধাহারে ছিলেন।

হাতিয়া ইউনিয়নের বানভাসি রোকেয়া বেওয়া (৫৬) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঈদের দিন ঘরে চাল ছিল না। ভিজিএফের চালের পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু পেলাম না। অন্য একজনের কাছ থেকে একটু চাল ধার করে রান্না করেছি। ঈদ তো চলে গেল। এখনো ভিজিএফের চাল পেলাম না।'

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বানভাসি মোকসেদ আলী (৬২) বলেন, 'ঈদের আগে চাল না পাওয়ায় ঈদের দিন খাবার নিয়ে কষ্ট হয়েছে। এই চাল কেউ পাবে কি না কে জানে।'

ধামশ্রেণি ইউনিয়নের বানভাসি আকলিমা বেওয়া (৬০) বলেন, 'ঈদের দিন ঘরে চাল ছিল না। ভিজিএফের চালের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। খুব কষ্ট হয়েছে।'

হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শায়কুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '৬ হাজার ৮৯১টি ভিজিএফ কার্ডের জন্য ৬৮ হাজার ৯১০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ৪-৫ দিন আগে এসব চাল স্থানীয় খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করার কথা ছিল। খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত চাল পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। পরে জেলা সদর খাদ্যগুদাম থেকে চাল এনে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই কাজে দেরি হয়ে যায়।'

তিনি আরও বলেন, 'ঈদের আগের দিন বিকালে চাল পাই। এই কারণে অল্প কিছু ভিজিএফ সুবিধাভোগীকে চাল দিতে পেরেছি। অধিকাংশই এখনো পাননি।'

'মঙ্গলবার ও বুধবার বাকী ভিজিএফ সুবিধাভোগীর মাঝে চাল বিতরণ শেষ করবো,' যোগ করেন তিনি।

খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে ধামশ্রেণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার ইউনিয়নে ৫ হাজার ২৩০টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে ঈদের আগের দিন বিকালে ও ঈদের দিন ৬০০ কার্ডের চাল বিতরণ করতে পেরেছেন। বাকি চাল বুধবারের মধ্যে বিতরণ শেষ করব। ঈদের আগে ভিজিএফের চাল না পাওয়ায় অনেক বানভাসি মানুষকে কষ্ট করতে হয়েছে। এ জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা দায়ী।'

বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিন খুব কষ্ট করে ৪ হাজার ১০০টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে ২ হাজার ৫০০টি কার্ডের চাল বিতরণ করেছি। অবশিষ্ট কার্ডের চাল বিতরণ চলমান রয়েছে। ঈদের আগে বানভাসিরা ভিজিএফের চাল না পেয়ে খুব কষ্ট পেয়েছেন।'

উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিরাজ উদ দৌলা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঈদের ৫ দিন আগে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যগুদামে সমস্যার কারণে বরাদ্দকৃত চাল সরবরাহ পেতে বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি ইউনিয়নে ঈদের আগে চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি। আগামী বুধবারের মধ্যে চাল বিতরণ শেষ করতে চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।'

দুর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত উলিপুর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে, 'আমি কিছু বলতে চাই না। যা বলার আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলবেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।'

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু বক্কর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উলিপুর খাদ্যগুদামে চাল সংকট থাকায় জেলা সদর খাদ্যগুদাম থেকে চাল সরবরাহ করা হয়। ঈদের আগের দিন বিকালের মধ্যে চাল সরবরাহ সম্পন্ন করা হয়।'

খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'