তামাক চাষ বন্ধে কলেজ শিক্ষকের ব্যতিক্রমী প্রচারণা
তামাক চাষ থেকে কৃষকদের বিরত রাখতে ও এ বিষয়ে সচেতন করতে ব্যতিক্রমী প্রচারণা করেছেন লালমনিরহাটের এক কলেজ শিক্ষক। এ প্রচারণা লিফলেট বিতরণ অথবা সভা-সেমিনার নয়। তিনি সমন্বিতভাবে সবজি-ফল চাষ করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।
তার এই প্রচারণা এলাকায় সাড়া ফেলেছে। তামাক চাষে আটকে থাকা কৃষকরা কৃষিতে কলেজ শিক্ষকের সফলতায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। আর তামাক চাষকে বলছেন 'না'।
লালমনিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের গ্রামের বাড়ি আদিতমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ইউনিয়নে। এখানে অধিকাংশ কৃষক তামাক চাষ করছেন। তাদের তামাক চাষ থেকে ফিরিয়ে আনতে আর শিক্ষিত তরুণদের কৃষিকাজে অনুপ্রাণিত করতে তিনি নিজে ফল-সবজি চাষ করছেন। সফলতাও পাচ্ছেন আশানুরূপ।
আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিজের ৫ বিঘা জমিতে ৩ লাখ টাকা খরচ করে ৮০০ মালটা গাছ লাগিয়েছি। এ ছাড়াও আছে ৮০০ পেঁপে গাছ, আছে পেয়ারাও। বাগানের খালি অংশে আছে লাল শাক, লাউ, মরিচ ইত্যাদি।'
'প্রতিটি পেঁপে গাছে ফলন পাচ্ছি দেড় থেকে ২ কেজি ওজনের ১০০ থেকে ১২০টি পেঁপে। বাগান থেকে ৮-১০ টাকা কেজি দরে এ সব পেঁপে বিক্রি করছি। এতে ৫ বিঘা জমিতে পেঁপে বিক্রি করে ৭ লাখ টাকা লাভের আশা করছি।'
তিনি আরও বলেন, 'শুধু লাভবান হতে কৃষি কাজ করছি না। আমি কৃষিতে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছি অন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে। যাতে তারা তামাক চাষকে লাভবান মনে না করেন। তারা যেন তামাক চাষ ছেড়ে আমার মতো ফল-সবজির সমন্বিত বাগান করেন সফল হন।'
'আমি স্বপ্ন দেখছি আমার এলাকার কৃষকরা তামাক চাষের বিরুদ্ধে সচেতন হবেন আর তামাক চাষ থেকে বিরত থাকবেন। তামাক চাষ মুক্ত হবে আমার এলাকা। ফল-সবজির বাগানে ভরে উঠবে গ্রামটি।'
একই জমিতে নানা জাতের ফল ও সবজি চাষে কলেজ শিক্ষকের সফলতায় স্থানীয় কৃষক ও তরুণ আকৃষ্ট হচ্ছে। কৃষকরাও সমন্বিত ফল-সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন আর তরুণরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষিতে মনোনিবেশ করার।
আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। শিখিয়ে দিচ্ছেন সমন্বিত ফল-সবজি চাষের পদ্ধতি ও পরিচর্যার কৌশল।
কৃষক আবুল কাসেম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কলেজ শিক্ষকের সমন্বিত ফল-সবজি চাষে আমি মুগ্ধ ও উদ্বুদ্ধ। তার কাছ থেকে চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছি। যে জমিতে তামাক চাষ করছি এখন সেখানে ফল-সবজি চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
'কলেজ শিক্ষকের কৃষিতে সফলতা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে,' উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'আমরা আগে শুধু তামাক চাষকে লাভবান মনে করতাম। কিন্তু তা সঠিক নয়। তামাকের চেয়ে ফল ও সবজি চাষ বেশি লাভের।'
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামিম আশরাফ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তামাক চাষের বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষকের ব্যতিক্রমী প্রচারণা ফলপ্রসূ হচ্ছে। কৃষিতে তার সাফল্য কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে। অনেক কৃষক তামাক চাষ ছেড়ে সমন্বিত ফল-সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।'
কৃষি বিভাগ থেকে সমন্বিত ফল-সবজি চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।