ট্রেনে ক্যাটারিংয়ের মান উন্নয়নে রেলওয়ের পৃথক কোম্পানি

তুহিন শুভ্র অধিকারী
তুহিন শুভ্র অধিকারী

ক্যাটারিং ও পর্যটন সেবার মান উন্নয়ন ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেল মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে গঠিত কমিটি প্রথম বৈঠক করেছে। নতুন এই কোম্পানির নাম হতে পারে 'বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কোম্পানি লিমিটেড'।

বর্তমানে ২০১৯ সালের গঠিত 'বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সেল' এর আওতায় অল্প কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ক্যাটারিং সেবা দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ট্রেনে এই সেবা দেয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

উভয় ক্ষেত্রেই খাবারের মান ও দাম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।

গত এক দশকে বিপুল বিনিয়োগ ও যাত্রী বৃদ্ধির পরেও এই খাতটি প্রত্যাশিত সেবার মান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিপুল বিনিয়োগ ও যাত্রী বৃদ্ধির পরেও রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থা লোকসানেই রয়ে গেছে এবং বছরের পর বছর এর লোকসান ক্রমাগত বাড়ছে।

মন্ত্রণালয় গত বছরের অক্টোবরে ক্যাটারিং সার্ভিস সেলের জন্য নিয়োগ ও পরিচালনার নির্দেশিকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে, রেলওয়ের বিপণন বিভাগের অধীনে পরিচালিত এই কর্তৃপক্ষ এখনও কর্মী নিয়োগ করতে পারেনি।

এর ফলে সেলটি কেবলমাত্র ৪ থেকে ৫টি নতুন ট্রেন সেবা দিতে পারছে। এই সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে থেকে ইজারা নিয়ে বেশিরভাগ যাত্রীবাহী ট্রেনে ক্যাটারিং সেবা দিচ্ছে। প্রায়শই এসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকায় খাবার বিক্রি করে এবং অধিক মুনাফার লোভে ভালো মানের খাবারও দেয় না।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ট্রেন, স্টেশন ও অন্যান্য জায়গায় ক্যাটারিং ও পর্যটন সেবা দেওয়ার জন্য একটি পৃথক সংস্থা রয়েছে।

১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম করপোরেশন লিমিটেড বাজেট হোটেল, বিশেষ ট্যুর প্যাকেজ, তথ্য ও বাণিজ্যিক প্রচারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এই কোম্পানির ৩৪৯ কোটি ৬৪ লাখ রুপি আয় করেছে। যা ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় ১ হাজার ১২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

নতুন কোম্পানি

নতুন একটি কোম্পানি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত ১০ নভেম্বর।

রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার ঘোষের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি কমিটিকে এ বিষয়ে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

গতকাল রোববার দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে প্রণব বলেন, 'আমরা গত ৩০ নভেম্বর আমাদের প্রথম বৈঠক করেছি। খসড়া প্রস্তাবের জন্য আমরা রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব।'

বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে কোম্পানিটি গঠন করা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব বা অতিরিক্ত সচিব বোর্ডের সভাপতিত্ব করতে পারেন। যেখানে ২ জন পরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে এবং বাকি সদস্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে নেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনা ও পরিচালনার জন্য কোম্পানির একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকতে পারেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে কোম্পানিটি ন্যূনতম মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করবে। সময়ের সঙ্গে কার্যক্রম প্রসারিত হলে জনবল বাড়ানো হবে।

এখন পর্যন্ত কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড একমাত্র কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে রয়েছে।