ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবি: মেহেদীর রঙ না মুছতেই লাশ হলেন সুমা
মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ২০ আগস্ট বিজয়নগরের জহিরুলের সঙ্গে বিয়ে হয় শারমিন আক্তার সুমার। হাতের মেহেদির রঙ মুছে যাওয়ার আগেই গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় লইসকা বিলে নৌকাডুবিতে মুছে গেল সুমার জীবনের রঙ।
বিয়ের পর ফিরতি যাত্রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বামীসহ নৌকায় করে বাবার বাড়ি ফিরছিলেন সুমা। কিন্তু, বাপের বাড়ি ফেরা হলো না তার।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার লইসকা বিলে যাত্রীবোঝাই ইঞ্জিনচালিত নৌকার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বালুবোঝাই ভলগেটের মুখোমুখি সংঘর্ষে শতাধিক যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর সুমাসহ ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
আজ শনিবার শারমিন আক্তার সুমার (১৯) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। সুমা ছিলেন ওই গ্রামের মৃত জারু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। তার একমাত্র ভাই আলমগীর স্থানীয় বাজারে দর্জির কাজ করে সংসার চালান।
সুমাদের বাড়িতে ঢোকার আগেই দূর থেকে কানে ভেসে আসে কান্নার শোরগোল। সুমার ভাই ও মায়ের আহাজারিতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
সুমার ভাই আলমগীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ধার-দেনা কইরা একমাত্র বইনডারে বিয়া দিছিলাম। এই নৌকা দুর্ঘটনা আমার বইনের প্রাণডা কাইড়া নিছে। আমি আর আমার মা তারে ছাড়া এহন কেমনে থাকমু।'
কান্নারত অবস্থায় কথা হয় সুমার মামা আশিক মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, সাত দিন আগে তার ভাগ্নিকে বিজয়নগর উপজেলার ভিটিদাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাজারে মিষ্টির কারিগর হিসেবে কাজ করতেন জহিরুল।
সুমার ভাসুর আমির হামজা জানান, নৌ দুর্ঘটনায় তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তারা হতবাক হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমার নিথর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দেখে তাদের বিশ্বাস হয়নি যে সুমা আর নেই।
ভাটপাড়া গ্রামে সুমাদের গ্রামের বাড়ির দোচালা টিনের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র মেয়ে হারানোর শোকে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। নববিবাহিত সুমার স্বামী জহিরুলকেও তাদের বাড়িতে বারবার মূর্ছা যেতে দেখা গেছে। তাদের কারও সঙ্গেই কথা বলা সম্ভব হয়নি এই প্রতিবেদকের।