সহায়তার তালিকায় নাম ওঠাতে বাড়ল মৃত্যুর সংখ্যা!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয় সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের বাসিন্দা সহিদ মিয়ার স্ত্রী জমিলা বেগমের (৬৫)। স্থানীয়রা জমিলা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন। কিন্তু, প্রশাসনের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তার মরদেহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে ননদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে, সরকারিভাবে নিহতের তালিকায় নাম ওঠেনি জমিলা বেগমের।
তবে, ঘটনার দুই দিন পর আজ রোববার বিকেলে নিহত জমিলার বেগমের পরিবারের সদস্যরা সরকারি সহায়তার তালিকায় নাম ওঠাতে আসেন। তখন জমিলার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে জেলা প্রশাসন।
নৌকাডুবির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'নতুন করে জমিলা বেগমের মৃত্যুর তথ্য পাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩ জন।'
তিনি আরও বলেন, 'বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর নৌকা ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে আসার সময় লইসকা বিলে নৌকা ডুবে জমিলা এবং তার নাতি তানভীরের (৮) মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জমিলার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে, তার নাতি তানভীরের মরদেহ উদ্ধারে কিছুটা দেরি হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর তার স্বজনরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ নিয়ে যান। ফলে, নিহতের নাম সরকারি তালিকায় ওঠানো সম্ভব হয়নি।'
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন বলেন, 'তার পুত্রবধূ আঁখি আক্তার সরকারি সহায়তার তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য যোগাযোগ করলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর এটি তদন্ত করতে সদর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে জমিলার মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।'
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, 'জমিলা বেগমের মেয়ের জামাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এছাড়া, স্থানীয় সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাইও জমিলার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে জানা গেছে, নৌকাডুবির ঘটনায় তার আট বছর বয়সী নাতি তানভীর মারা গেছে এবং তার ছেলে মুরাদ আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি আছেন।'
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, 'জমিলার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তার বাড়িতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।'