খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক বছর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রায় এক বছর পর দেখা করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
আজ মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন 'ফিরোজা'য় যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির ৭ সদস্য।
সাক্ষাত শেষে 'ফিরোজা' থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, 'করোনাভাইরাসের প্রায় ২ বছর পরে আজকে আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একসঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে আমাদের চেয়ারপারসন এবং এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছিলাম। এই সাক্ষাত আমরা পূর্বেও করেছি, যখন তিনি কারাগারে ছিলেন না, গৃহ অন্তরীন ছিলেন না। ওই সময় প্রতি বছর আমরা ঘরের ভেতরে না, ঘরের বাইরে লনে বসে ঈদের দিনে সাক্ষাত করতাম, শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম।'
তিনি বলেন, 'আমাদের এবারের সাক্ষাত নিঃসন্দেহে খুব বেশি আনন্দময় ছিল না। আনন্দময় যতটুকু ছিলে এ জন্য যে, প্রায় বছর খানেক পর আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারলাম, তার কথা শুনতে পারলাম এবং তিনি যেন সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন এই প্রার্থনার কথা তাকে জানাতে পারলাম। দেশবাসী যে তার জন্য প্রার্থনা করছে সেই কথাটাও আমরা জানাতে পারলাম।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন অসুস্থ আপনারা জানেন। এই অসুস্থতার মধ্যে তিনি পূর্বেও যেমন দেশবাসীর কথা চিন্তা করেছেন, আজকে তিনি ঠিক একইভাবে দেশবাসীর ও দেশের মানুষের অবস্থার কথা জানতে চেয়েছেন এবং বর্তমানে যে সামগ্রিক অবস্থা আছে এই অবস্থারে ব্যাপারে অবগত হয়েছেন আমাদের দ্বারা।'
'সবসময় তিনি সেটা কাগজ-পত্রে পড়ছেন, নানা জায়গায় পড়েছেন। তারপরও তিনি আমাদের কাছ থেকে শুনেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন,' যোগ করেন তিনি।
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা
মির্জা ফখরুল বলেন, 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনাদেরকে এই কথা জানিয়েছেন যে, ঈদের শুভেচ্ছা তিনি আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে জানাতে চান। তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া তিনি চেয়েছেন এবং তিনি দেশবাসীর জন্য দোয়া করেছেন।'
'এ দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে, গণতন্ত্র ফিরে পায়, মানুষ তার অধিকার ফিরে পায়—এই প্রার্থনা তিনিও করেছেন'
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তিনি এখনো সুস্থ নন। ডাক্তাররা আছেন, তারা এই বিষয়ে বলতে পারবেন। এইটুকু আমি বলতে পারি যে, এখনো তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। এখনো হেঁটে খাবার টেবিলে যেতেও তার খুব কষ্ট হয়। এটাই বাস্তবতা। তাহলেই আপনারা বুঝতে পারবেন তিনি কেমন আছেন।'
দলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে কোনো বার্তা আছে কি না প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'তিনি একই কথা বলেছেন, দেশের জন্য ভালোবাসা তারা যেন প্রবল করে এবং দেশকে তারা যেন মুক্ত করে।'
আজ রাত ৮টায় মহাসচিবের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান গুলশানের বাসা 'ফিরোজা'য় ঢোকেন। এক ঘণ্টা তারা সেখানে ছিলেন। 'শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে' ফিরোজার দোতলায় দলীয় প্রধানের সঙ্গে তারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সর্বশেষ গত বছরের কোরবানির ঈদের দিন খালেদা জিয়ার দেখা পেয়েছিলেন এই নেতারা। গত বছর রোজার ঈদে বিএনপি চেয়ারপারসন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয়নি।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে।
এরপর থেকে গুলশানের ওই বাসায় থাকছেন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত খালেদা জিয়া। যেখানে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক কেউই তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না।
এর আগে সকালে খালেদা জিয়া বোন সেলিনা ইসলাম ও ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ নিকট স্বজনদের নিয়ে দুপুরে দুপুরের খাবার খান।