গোদাগাড়ী পৌর নির্বাচন: আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া বাকিদের ভোট বর্জন
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ-নির্বাচনে ৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই নির্বাচন বর্জন করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে।
ভোট বর্জন করা ৩ জন মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করা সাবেক মেয়র প্রয়াত মনিরুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, বিএনপি সমর্থিত গোলাম কিবরিয়া ও জামায়াত সমর্থিত মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তারা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
নির্বাচন বর্জন করার সময় তারা ৩ জনেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওয়ায়েজ উদ্দিন বিশ্বাস এবং তার কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ এবং সেই সব অনিয়মের কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
রিটার্নিং অফিসার সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে যাননি। জান্নাতুল ফেরদৌস নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে একটি অভিযোগ করেছিলেন, সেটি তিনি নিষ্পন্ন করেছেন। এছাড়া আর কোনো প্রার্থীর অভিযোগের কথা তিনি জানেন না। তারা কেন নির্বাচন বর্জন করলেন সেটাও তিনি জানেন না।
তিনি বলেন, 'ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম এবং বেলা ২ টা নাগাদ কেন্দ্রগুলোতে আনুমানিক ভোটার টার্নআউট ছিল শতকরা ২০ ভাগ।'
মেয়র প্রার্থী মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গতকাল বুধবার বিকেলে প্রথমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী অফিস, বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন বাড়ি হতে বের না হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছ। মিথ্যা মামলা দিয়ে কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি এ কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
পৌনে ১২টায় ফেসবুক লাইভে জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন যে, নমিনেশন পেপার জমা দেওয়ার পর থেকেই তিনি হয়রানি এবং পেরেশানির শিকার হচ্ছেন। তার নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, প্রচার মাইক ভেঙে ফেলা হয়েছে, কর্মীদের সপরিবারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে, প্রতিটি কাজে বাধা দেয়া হয়েছে, রাতে প্রতিটি ছেলে কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তল্লাশি করেছে।
তিনি বলেন, "আজ সকালে ভোট শুরু হলে আমি প্রতিটি কেন্দ্রে এজেন্ট পাঠিয়েছি এবং কর্মীদের নিয়ে গেছি আমার কেন্দ্রে। আমার কোনো এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, ভোট দিতে গেলে সরকারদলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদেরকে বের করে দিয়েছেন। কোথাও সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না, একতরফা ভোট হচ্ছে, এই ভোট আমি মানি না, মানবো না এবং আমি বিচার চাই। আমি এই ভোট বয়কট করছি।'
বেলা ২টায় মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া জানান, সকাল ১১ টায় তিনি ভোট বর্জন করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে, প্রচারণার সময় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। আজও তার এজেন্ট ও কর্মীদের ভোটকেন্দ্রের আশেপাশেও যেতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান ইতিপূর্বে নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি, তাই আজ নতুন করে কোনো অভিযোগ করেননি।
তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বলেছেন বিএনপির লোক তাই আমাকে বুঝেশুনে কাজ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কিভাবে ভোট করব?'
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজেও আজ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস পাননি এবং ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।