নাটোর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব, অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে
নাটোরের জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিলুপ্ত হওয়া আহ্বায়ক কমিটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ঘুষ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। আর এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে।
শনিবার দুপুরে নাটোর শহরের কান্দিভিটুয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক অ্যাড. আরিফুর রহমান সরকার ও যুগ্ন আহ্বায়ক আহম্মদ সেলিম এসব অভিযোগ করেন।
আরিফুর রহমান সরকার দাবি করেন, ঘুষ দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে প্রভাবিত করে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, নাটোর সদরের উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান, নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের যোগসাজশে নতুন কমিটি হয়েছে।
তারা আরও দাবি করেন, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস দুলুকে শক্তিশালী করতে এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাটোর-২ আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলকে দুর্বল করতেই এই কমিটি করা হয়েছে।
নতুন কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ ডলারকে রাজাকারের ছেলে ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপনকে মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক দাবি করে কাউন্সিলের মাধ্যমে আবার কমিটি গঠনের দাবি জানান।
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক অভিযোগ অস্বীকার করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই অভিযোগ সত্য নয়। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং আমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।'
নতুন কমিটির নেতাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপন ছাত্রলীগের সফল সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাদের ত্যাগ এবং শ্রমের মূল্যায়ন করেছে দল। ইশতিয়াক আহমেদ ডলার নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজে ৭৫ পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত একমাত্র ভিপি। জোট সরকারের আমলে তাকে মারধর করেছেল বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। তৎকালীন বিরোধী ধলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ডলারকে দেখতে গিয়েছিলেন। বর্তমান কমিটিকে নাটোরের চার জন এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়রসহ প্রায় সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের ছত্রছায়ায় দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে তা শোভনীয় নয়।
অভিযোগের ব্যাপারে নতুন কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ ডলার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নাটোরে আঠারো বছর সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি ছিল। তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি। যারা আজকে কথা বলছে কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের অব্যাহতি দিয়ে জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। নতুন কমিটিতে পদ পদবী না পেয়ে তারা এসব কথা বলছেন। রাজাকারের ছেলে বলে তারা আমাকে এবং আমার মরহুম বাবাকে হেয় করেছে। আমার পরিবারের সম্মানহানি করেছে। যারা এসব বলেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো।'
সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম স্বপন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটা সত্য যে আমার ভাইকে পুলিশে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে তখন বলেছিলেন, এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের নির্দেশেই আমার ভাইকে তারা ধরেছিলেন। তাছাড়া আমার ভাই যদি অপরাধীও হয় তার দায় নিশ্চয় আমার হতে পারে না।'